আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার সংসদে জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংসদে বিবৃতি
পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মুহাম্মদ আলী আসগরের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাকি মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে মন্ত্রী জানান, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলার সঠিক সংখ্যা সরকারের কাছে নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, মামলা দায়েরের সময় প্রথম তথ্য প্রতিবেদনে (এফআইআর) রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না থাকায় সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
বিএনপির তথ্য
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
একই সময়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোনো সরকারি তথ্য নেই বলে জানান তিনি।
মামলা প্রত্যাহার কমিটি
মন্ত্রী আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন, এফআইআর, চার্জশিটের সত্যায়িত কপি এবং সরকারি কৌঁসুলিদের মতামত পর্যালোচনা করে।
যদি কোনো মামলা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক, জনস্বার্থে জরুরি না এবং এর ধারাবাহিকতা রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে পারে বলে বিবেচিত হয়, তবে কমিটি তা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে।
কেন্দ্রীয় কমিটি
প্রক্রিয়াটি সহজতর করতে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ একটি ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়, যা জেলা পর্যায়ের সুপারিশ পর্যালোচনা করে মামলা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।



