রাজধানীর কদমতলী থানাধীন এলাকায় মজা খাওয়ানোর কথা বলে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় মো. সোহান আলম তপুর (২৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি আসামিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
রায় ঘোষণা
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সাহেকীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার সূত্রে জানা গেছে, আসামি সোহান বাদীর পূর্ব পরিচিত। সেই পরিচয় ধরে ভুক্তভোগীর পরিবার চিকিৎসার জন্য ঢাকার কদমতলী থানাধীন এলাকায় আসামির বাসায় ওঠেন। ২০২৩ সালের ৮ মে রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীর শিশুকে কদমতলী থানাধীন মাতুয়াইল মা ও শিশু ইনস্টিটিউট সুইপার গলিতে নিয়ে যায় সোহান। ওইদিন রাত ২টার দিকে আসামি ওই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরবর্তী ঘটনা
পরদিন সকাল বেলায় আসামি ওই শিশুর মাকে জানায় শিশুটি চোখে ব্যথা পেয়েছে। তখন ওই মা মেয়েকে কখন, কোথায় ও কীভাবে ব্যথা পেয়েছে বলে জিজ্ঞাসা করে। জবাবে ভিকটিম জানায়, আসামির নানির বাসায় নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে অভিযুক্ত সোহান মজার জিনিস খাওয়ানোর কথা বলে তাকে শয়নকক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর আসামি এই ঘটনার কথা কাউকে বলতে নিষেধ করে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এই ঘটনায় ভিকটিমের আত্মীয় মো. সাজ্জাত হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।
গ্রেফতার ও বিচার
মামলার পর একই বছরের ১৪ মে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে আসামি কারাগারে আটক রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর কদমতলী থানার এসআই মো. মহসীন চৌধুরী আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। বিচারকালে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।



