শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে হুমকি, দোকান কর্মচারী পুলিশে সোপর্দ
শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে হুমকি, কর্মচারী পুলিশে সোপর্দ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে হুমকি ও তার মোবাইল নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রিন্টিং ও ফটোকপির দোকানের এক কর্মচারীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণের নাম আশরাফুল ইসলাম (২৫)। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে প্রক্টরিয়াল বডি।

ঘটনার বিবরণ

প্রক্টর অফিস, শিক্ষার্থী ও পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেমিস্টারের প্রেজেন্টেশন পেপার প্রিন্ট করতে মদিনা মার্কেটের হক ম্যানশনে অবস্থিত একটি দোকানে যান। সেখানে প্রতি পৃষ্ঠা ৩০ টাকা করে লেখা ও প্রিন্ট করতে অর্ডার করেন তিনি। কাজ শেষে দোকানের কর্মচারী অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী ৫০০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে ওই কর্মচারী ফোন করে আরও টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি ওই শিক্ষার্থীকে মদিনা মার্কেট এলাকায় গেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ ছাড়া দোকানের ওই কর্মচারী হোয়াটসঅ্যাপে ও ফেসবুকের বিভিন্ন অসামাজিক গ্রুপে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে গত দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অচেনা লোকজন ফোন ও মেসেজ দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অসামাজিক কথাবার্তা ও অনৈতিক কাজের মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করে আসছিল।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে থানার এসআই সাগর মদিনা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রক্টর ও পুলিশের বক্তব্য

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সাদমিম হাসান সিফাত বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করেছে। এ জন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ওসি শামছুল হাবিব বলেন, একজন নারী শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোনে হেনস্তা ও তার নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।