রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন খুন হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করে হত্যা করে। টিটন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম দ্বিতীয় ছিল। পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার অন্তর্কোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা শাহাদাত জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এক যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলি করা হয়। পরে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।
পূর্বের ঘটনা ও জড়িত সন্দেহ
গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় পুলিশের তালিকাভুক্ত আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে। তদন্তে উঠে এসেছে যে এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন টিটনের ভগ্নিপতি সানজিদুল ইসলাম ইমন। পুলিশ সন্দেহ করছে, বর্তমান হত্যাকাণ্ডেও ইমন জড়িত থাকতে পারে।
টিটনের অপরাধ জগতে উত্থান
পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে সন্ত্রাসী জগতে প্রবেশ করেন। প্রথমে তিনি স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন এবং ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি বাড়ান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অপরাধ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দেন এবং অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।
গ্রেপ্তার ও জামিন
২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে আসার পরই তাকে হত্যা করা হলো।



