গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ি থানা এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে জোর করে সিএনজিতে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর ও ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক কোনাবাড়ি থানায় কর্মরত। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীর বর্ণনা
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি চৌরাস্তা এলাকায় একটি প্রেস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সোমবার রাত ১০টার দিকে রুবেল ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে একটি সিএনজি থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সিএনজি এসে তার পেছনে থামে এবং তাকে জোর করে ওই সিএনজিতে তুলে হরিণচালা এলাকার কাশেম কটনের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তল্লাশির নামে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। একপর্যায়ে একটি পলিথিনে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা কেড়ে নেয়।
এ সময় ওই সিএনজিতে সিফাত নামের আরও এক যুবককে রাখা হয়। অভিযোগ, তার মোবাইলে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপ থাকার অপরাধে তাকে আটক করা হয়। সিফাতের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয় এবং সিফাতের ভাই দেলোয়ারের মোবাইলে ২ হাজার ৪০০ টাকা পাঠানো হয়। পরে দেলোয়ারকে নিয়ে বাইমাইল মসজিদ মার্কেট এলাকায় গিয়ে মোবাইল বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আরও প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা তোলা হয়।
হুমকি ও টাকা ফেরতের চেষ্টা
ভুক্তভোগী জানান, টাকা নেওয়ার পর ওই পুলিশ সদস্য তার ছবি তুলে রাখেন এবং কাউকে ঘটনা না জানানোর জন্য বলেন। জানালে আরও বড় ধরনের বিপদের মুখে ফেলার হুমকি দিয়ে তাকে পূর্বের স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর দেলোয়ার ঘনিষ্ঠ দুই-একজনকে বললে ওই রাত ২টার দিকে ৮ জন পুলিশ সদস্য তার বাসায় যান এবং টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযুক্তের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে সিফাত নামের ওই যুবক মোবাইল ফোনে সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমাকে ভয় দেখানো হয়েছে, তাই বেশি কিছু বলতে পারছি না। তবে অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ি থানার ওসি ইফতেখার হোসেন বলেন, ঘটনাটি গত রাতে শুনেছি। মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ঘটনা সত্য হলে অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



