ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদসহ একাধিক হল সংসদ নেতার ওপর শাহবাগ থানার ভেতরে হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মো. যুবায়ের বিন নেছারী (এবি জুবায়ের নামে পরিচিত) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশ প্রাপক
নোটিশটি জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
নোটিশে বলা হয়, গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অভিযোগ জানাতে তিনি শাহবাগ থানায় গেলে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদলের ১০০-১২০ জন নেতাকর্মী তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে মাস্টারদা সূর্যসেন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সায়েদুজ্জামান নুর আলভী ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরসহ ডাকসুর কয়েকজন সম্পাদক ও প্রতিনিধি সন্ধ্যা ৭টার দিকে থানায় যান।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, থানায় প্রবেশের পর ছাত্রদল কর্মী জুনায়েদ আবরার এবি জুবায়েরকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় আলামিন, শাহ মুহাম্মাদ রুবায়েত ও সৈকত মোরশেদ তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। একই সময়ে ছাত্রদল কর্মী রাতুল ও রাদিল ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জন হামলাকারী জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে মারধর করেন। হামলা থেকে বাঁচতে তারা থানার একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে সেখানেও তাদের ঘেরাও করে পুনরায় আঘাত করা হয়। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তারা মেডিকেল সনদ নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এফআইআর গ্রহণে অস্বীকৃতি
নোটিশে বলা হয়, চিকিৎসা শেষে ২৬ এপ্রিল এবি জুবায়ের শাহবাগ থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ এজাহার দাখিল করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা, পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল ১৯৪৩-এর বিধি ২৪৪(ক) এবং নারীপক্ষ বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পেলে পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে এফআইআর গ্রহণ করবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এফআইআর গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
ডাকসু নেতাদের বক্তব্য
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘থানার ভেতরে প্রকাশ্যে আমাদের ওপর হামলা চালানো হলেও পুলিশ প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা আইনগতভাবে এজাহার দাখিল করতে গেলে সেটি গ্রহণ করতেও গড়িমসি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী।’ তিনি বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী কোনো আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পেলে পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে এফআইআর গ্রহণ করবে। কিন্তু তারা আইন মানছে না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং আমাদের দায়ের করা মামলাটি অবিলম্বে গ্রহণের দাবি জানাই।’
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘২৬ এপ্রিল আমরা মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। অথচ আইন অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে এফআইআর গ্রহণ করা পুলিশের বাধ্যবাধকতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘থানার অভ্যন্তরে ক্যামেরার উপস্থিতিতে ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অথচ মামলাটি নেওয়া হচ্ছে না। আমরা এ ঘটনায় অত্যন্ত শঙ্কিত। আশা করি, পুলিশ প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা মামলাটি গ্রহণ করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করবে।’



