ঢাবিতে জিয়ার কর্ম ও জীবন নিয়ে আলোচনা সভা
ঢাবিতে জিয়ার কর্ম ও জীবন নিয়ে আলোচনা সভা

ঢাবিতে জিয়ার কর্ম ও জীবন নিয়ে আলোচনা সভা

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্ম ও জীবন নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, স্বাধীনচেতা নেতৃত্ব ও জাতীয়তাবাদী দর্শনই তাকে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত রাষ্ট্রনায়কে পরিণত করেছিল। তার এই অবস্থানের কারণেই তিনি বারবার ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে দেশের আত্মপরিচয়ের ভিত্তি হিসাবে তুলে ধরে তারা বলেন, জিয়ার জাতীয়তাবাদের ধারাই রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রধান শক্তি। সোমবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্ম ও জীবন নিয়ে ‘কমল কুঁড়ি’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ : আত্মপরিচয়ের উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী। দেশপ্রেম জাতীয়তাবাদেরই একটি অংশ। তার দেশপ্রেমের কারণেই তিনি মহান জাতীয়তাবাদী হয়েছেন, আর সেই কারণেই বারবার ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন আগের শাসকরা যা করতে চেয়েছেন, তিনি তার বিপরীত পথে হেঁটেছেন। এটাই তার সাফল্য।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, পদ্মা রক্ষার আন্দোলন জিয়াউর রহমান এমন একপর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে একটি বিশাল ঐতিহাসিক মিছিল হয়েছিল। তিনি এর পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রবীণ জাতীয়তাবাদী নেতারা। এজন্যই তিনি টার্গেটে পরিণত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এমন একটি ধারণা, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, বিগত আন্দোলনে ছাত্র বলতে কেবল সাধারণ ছাত্রদের বোঝায় না। আজকের বাস্তবতায় বেশির ভাগ ছাত্রের প্রতিনিধিত্ব করে জিয়ার তৈরি করা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির খুব কমই আছে, যেখানে বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুর পর বিশ্বের বহু দেশে শোক দিবস পালন করা হয়েছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর প্রায় ১০০টি দেশে শোক পালন করা হয়েছিল। এর মধ্যে তুরস্ক তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, জিয়াউর রহমান ততদিন থাকবেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদও ততদিন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া পরবর্তী সময়ে যে রাজনীতি করেছেন, সেটিও জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত পথেই এগিয়েছে। আর আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে রয়েছে জিয়ার নিশান। তার মুখে বাংলাদেশের ছায়া ফুটে আছে। তার রাজনীতির লাইন অব অ্যাকশন সহজ, স্বাভাবিক এবং বাংলাদেশের প্রকৃতির মতো স্বচ্ছ।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চলনা করেন প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবীবা, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সিনিয়র সহসভাপতি শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস প্রমুখ।