জুলাই সনদ অপ্রয়োজনীয়: বিএনপি এমপি রনি
জুলাই সনদ অপ্রয়োজনীয়: বিএনপি এমপি রনি

জুলাই জাতীয় সনদকে 'আননেসেসারি' (অপ্রয়োজনীয়) আখ্যা দিয়েছেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি। বিরোধী জোটের সমালোচনা করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেছেন, 'সংসদের প্রথম দিন থেকেই আননেসেসারি একটি জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছেন।'

সংসদে বক্তব্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিন সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র দুই মাসে সরকার যে সফলতা অর্জন করেছে, আজকে এই সফলতা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। এমনকি, নেপালের নতুন সরকারও আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করছে। কিন্তু, আফসোসের বিষয় আমাদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একটা ধন্যবাদ বাক্য আমরা শুনলাম না। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা এই সংসদ পেয়েছি। আমরা একটি প্রাণবন্ত এবং রোমাঞ্চকর সংসদই চেয়েছিলাম। বিরোধী দলের নেতা বলেছিলেন, উনি নাকি আমাদের মন পেতে চাচ্ছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। আমাদের মন কীভাবে পাবেন। উনারা যদি জুলাই আন্দোলনকে তাদের একক অর্জন বলে দাবি করতে চান তখন তো আমাদের মন ব্যথিত হয়। তখন তো আমরা তাদেরকে এই মন কীভাবে দেবো?'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিরোধী দলের প্রতি বার্তা

বিরোধী দল ও জোটের উদ্দেশে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, 'কিছুদিন আগে বিরোধী দলের এক সদস্য এই সংসদে বলেছিলেন, তৎকালীন জুলাই আন্দোলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখিয়ে এক পুলিশ অফিসার যে ভিডিও দেখাচ্ছিল যে একটা গুলি করলে একটাই মরে, বাকিরা সরে না। যারা সরে না এটা নাকি তারাই ছিলেন। সেখানে তো আমরাও ছিলাম। তাহলে আমাদের ৪০০ এর অধিক সহযোদ্ধাকে আমরা কীভাবে হারালাম? এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই আননেসেসারি একটি জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছেন।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আজকে আমি একটি সত্য তুলে ধরতে চাই। ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলন হয়েছে। অনেকেই হয়তো জানেন না, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই লন্ডনের টাওয়ার হিলে একটি সমাবেশে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে তাহলে কোটাকে ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশে আনা হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কতটা বিচক্ষণ কতটা দূরদর্শী যে তিনি সেটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন,' যোগ করেন তিনি।

গণহত্যার দাগ

এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, 'মাননীয় স্পিকার, ২০২৪ এর গণহত্যার দাগ লেগে আছে আওয়ামী লীগের হাতে। ৯০-এর ছাত্র হত্যার দাগ লেগে আছে জাতীয় পার্টির হাতে। আর ৭১-এর গণহত্যার দাগ লেগে আছে আরেকটি দলের হাতে। বাংলাদেশে বিএনপি একমাত্র দল যাদের হাতে কোনও রক্তের দাগ নেই। বিএনপি হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশ্রয়স্থল। বিএনপি গণমানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করে। আজকে আমাদের গর্ব করা উচিত যে আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি যিনি নিরলসভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে ছিলাম, আই রিপিট ১৭ বছর। এখানে আমার ডান পাশে যারা বিরোধী দলের সদস্যরা আছেন তাদের অনেকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হয়তো ৩-৪ বছরের বেশি নয়। আমাদেরকে রাজপথের হুংকার দিয়ে রাজপথে আন্দোলনের কথা বলে লাভ নেই। আপনারা যদি আমাদের মন পেতে চান তাহলে ওপেন হার্ট নিয়ে আসুন। ইনশাল্লাহ আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে এই বাংলাদেশকে গড়বো।'

বিরোধী সদস্যের প্রতিক্রিয়া

এম মঞ্জুরুল করিম রনির বক্তব্যের বিরোধ করে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বলেন, 'দুঃখজনকভাবে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ, যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আজকের সংসদ, যে গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আজকে ট্রেজারি বেঞ্চের সরকার গঠন করেছেন যারা, আজকের এই মহান সংসদে জুলাইকে আননেসেসারি বলা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।'

এ সময় স্পিকার বলেন, 'মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আমাকে এড্রেস করে কথা বলবেন। আপনারা যা কিছু বলবেন স্পিকারকে এড্রেস করে বলবেন। এখানে তো বিভিন্ন দলের সদস্যবৃন্দ রিপ্রেজেন্টেড, প্রত্যেকের কী একই অনুভব হতে পারে? গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মত-ভিন্নতা। সুতরাং, একেকজন বাকস্বাধীনতার সফলতা নিয়ে যে যার বক্তব্য খোলাখুলিভাবে জাতীয় সংসদে প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু, যখন স্পিকার কথা বলে অনুগ্রহ করে সবাই চুপ করে বসে থাকবেন নিজের আসনে। আমি যেটা বলতে চাই— সকলেরই বাকস্বাধীনতা আছে। যদি কোনও বক্তব্য আপনাদের পছন্দ না হয় এরপরেই তো আপনারা একজন বক্তব্য রাখবেন, তিনি এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে আপনাদের মতামত আপনারা প্রচার করতে পারেন সুন্দর শালীনভাবে। যে যার বক্তব্য জাতীয় সংসদে রাখবেন এটাই আমরা আশা করি। অহেতুক একজন বক্তাকে কেউ ডিস্টার্ব করবেন না।'