কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার রহস্য উদঘাটন করল র‍্যাব
কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার রহস্য উদঘাটন করল র‍্যাব

কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার রহস্য উদঘাটন করল র‍্যাব

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে র‍্যাব-১১। সেদিন রাতে ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। গাড়ি থেকে নামার পর শহরের বাসায় যেতে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে তিনি সিএনজিতে উঠে পড়েন। তিনি কি জানতেন যাত্রী বেশে ছিনতাইকারী দল সিএনজিতে বসে আছে। তার টাকা-মালামাল লুট করে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে। প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

র‍্যাব-১১ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৫ এপ্রিল রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে বুলেট বৈরাগী (৩৫) নামে এক কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষে নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার

পরবর্তীতে র‍্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও মো. সুজন। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাগ ও পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, স্ক্রু ড্রাইভার, ফোরজিং হ্যামার, প্লায়ার্স, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছিনতাইকারী চক্রের কার্যক্রম

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা রাতে যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই এবং ডাকাতি করত। ঘটনার দিন গভীর রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় ওৎ পেতে থাকা আসামিরা বুলেট বৈরাগীকে সিএনজিতে তুলে নেয়। পরে চলন্ত সিএনজির ভেতরে তাকে আঘাত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে কোটবাড়ি এলাকায় পৌঁছে তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিলে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। র‍্যাব তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধার করে।

আইনানুগ ব্যবস্থা

র‍্যাব-১১ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কুমিল্লাস্থ র‍্যাব-১১ সিপিসি-২ এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, ঘাতকরা পেশাদার ছিনতাইকারী। তাদের বিরুদ্ধে রেল ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। আমরা তাদের কাছ থেকে হত্যার বর্ণনা গ্রহণ করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা আসামি গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি।