সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে আরো ছয় মাস সময় বাড়িয়েছে হাইকোর্ট। রবিবার বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি এএফএম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
শুনানির বিবরণ
রিট পিটিশনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মঞ্জিল মুরশিদ ও মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মামলার তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, ১৩ বছরে চার্জশিট দাখিল করা না যাওয়া বেদনাদায়ক এবং তদন্ত সম্পন্ন করতে আরো ছয় মাস প্রয়োজন।
রিট পিটিশনের আইনজীবীরা ছয় মাসের পরিবর্তে তিন মাস সময় চেয়েছিলেন। পরে আদালত তদন্ত সম্পন্ন করতে ছয় মাস সময় মঞ্জুর করে।
আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, 'এই মামলার তদন্তের সময় আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন তাদের অনেককেই পাওয়া যাচ্ছে না। কখন পাওয়া যাবে? আল্লাহ জানেন। তদন্তের শেষ নেই। বিচার কবে শুরু হবে?'
পূর্ববর্তী আদেশ
২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর হাইকোর্ট সর্বশেষ ছয় মাস সময় দিয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের সময় বৃদ্ধির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ সেই আদেশ দেয়। যদিও সেদিন শেষ সময় বলা হয়েছিল, রবিবার রাষ্ট্রপক্ষ আবারো ছয় মাস সময় চেয়ে আবেদন করে।
সেদিন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। তাকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুশফিকুর রহিম ও অন্যান্য। রিট পিটিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মুরশিদ ও শিশির মনির।
টাস্কফোর্স গঠন
২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে এই হত্যা মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার পুলিশ প্রতিনিধি, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর প্রতিনিধি রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ টাস্কফোর্স গঠনের গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়। আদালত ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে এবং তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি করে এই আদেশ দেয়।
এরপর ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল হাইকোর্ট আবারো ছয় মাস সময় বাড়ায়। বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজির বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের সময় বৃদ্ধির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেয়।
ঘটনার বিবরণ
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে মাছরাঙা টেলিভিশনের নিউজ এডিটর সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি তাদের ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন। তাদের একমাত্র পুত্র মাহির সারোয়ার মেঘ তখন বাসায় ছিল।
রুনির ভাই নওশের রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলার পর শেরেবাংলা নগর থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন দিন পর মামলাটি গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তরিত হয়। তাদের ব্যর্থতার পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলায় গ্রেফতার আটজনের মধ্যে দুইজন জামিন পেয়েছেন এবং বাকিরা জেলে রয়েছেন।



