লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত তিন বছর ধরে শারীরিক সম্পর্কের পর এক নবজাতকের জন্ম দিয়েছেন এক নারী। তবে নবজাতকের জন্মের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ
ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় তিন বছর আগে স্বামী ফরিদ হোসেনের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর প্রতিবেশী আব্দুল বারেকের ছেলে নুরুল আলমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নুরুল আলম তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি আরও বলেন, 'আমি গর্ভবতী হওয়ার পর বিষয়টি নুরুল আলমকে জানালে সে আমাকে গর্ভপাতের ওষুধ এনে দেয়। কিন্তু আমি সন্তান নষ্ট করিনি। বর্তমানে আমার নবজাতক সন্তানের বয়স পাঁচ দিন। এখন নুরুল আলম সবকিছু অস্বীকার করছে।'
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা দিনারা বেগমের বিরুদ্ধে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
সচেতন মহলের দাবি, একটি নিষ্পাপ শিশুর সামাজিক ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নবজাতকের পিতার সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে তার প্রাপ্য অধিকার ও ন্যায়বিচার দিতে হবে।
স্থানীয়দের প্রস্তাব
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নবজাতকের জন্ম দেওয়া নারীর আগের সংসারের তিন সন্তান এবং অভিযুক্ত নুরুল আলমের চার সন্তান রয়েছে। তাদের মতে নবজাতকের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিতে দুজনের বিয়ে পড়ানোর পর তাদের গ্রাম থেকে চলে যেতে বলা হবে। স্থানীয়রা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইউপি সদস্যের বক্তব্য
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন বলেন, 'বিষয়টি আমরা অবগত আছি। নুরুল আলমের সঙ্গে কথা বলে নবজাতকের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।' অভিযুক্ত নুরুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
থানার অবস্থান
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



