লক্ষ্মীপুর সদরে বিয়েবাড়িতে খাওয়ার টেবিলে বসা নিয়ে বরপক্ষের সঙ্গে কনেপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ছয় জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বাড়ির পাশে মো. হারুনুর রশিদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ইব্রাহিম খলিল, মো. অনিক, মেহেদী হাসান আনন্দ, মো. রানা, মো. ইয়ামিন ও মো. শাহ আলম। তারা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার হারুনুর রশিদের ছেলে ফারুক হোসেনের সঙ্গে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে সামিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। শনিবার বরপক্ষের বাড়িতে খাবারের আয়োজন ছিল। কনেপক্ষের লোকজন দুপুরে বরের বাড়িতে আসেন। এ সময় খাওয়ার টেবিলে বসার ব্যবস্থা না করায় দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
কনেপক্ষের লোকজন অভিযোগ করেন, খেতে বসার সময় বরপক্ষের কিছু লোক চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাদের বসতে দেওয়া হয়নি। এতে কনেপক্ষের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কী আল্লাহর উছিলায় খেতে আসছি? এ নিয়ে প্রথমে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বরপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে কনেপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসও ভাঙচুর করা হয়।
কনপক্ষের অতিথি ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, ‘খাওয়ার টেবিলে বসতে না দেওয়ায় কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।’
এ ব্যাপারে বরপক্ষের কেউ কোনও কথা বলতে রাজি হননি। সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জয়দেব নন্দী বলেন, ‘আহত অবস্থায় ছয় জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহিন বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতাল ও পরে ঘটনাস্থল গিয়েছি। দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



