সুপ্রিম কোর্টে ভার্চ্যুয়াল শুনানি: জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে নতুন নির্দেশনা
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে সপ্তাহের প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে। সপ্তাহের অন্যান্য কার্যদিবসে, অর্থাৎ রবি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত, শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চলবে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি ও কার্যকর তারিখ
প্রধান বিচারপতির আদেশ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর সই করা বিজ্ঞপ্তিটি মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নির্দেশনা ২২ এপ্রিল, অর্থাৎ আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির ব্যবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও দাবি
শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চালু রাখার দাবিতে সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসেই আইনজীবীরা সোচ্চার হচ্ছেন। দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে একদল আইনজীবী এই দাবি জানান। মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘আয়োজনে: সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্যবৃন্দ’।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার, মোকছেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস ও ইয়ারুল ইসলাম। তারা নিয়মিত শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও এই ব্যবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আদালতের কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ। ভার্চ্যুয়াল শুনানির মাধ্যমে সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে আইনজীবীদের মতে, শারীরিক উপস্থিতি আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
এই পরিবর্তন আদালতের দৈনন্দিন কাজকর্মে কী প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও নির্দেশনা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



