চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সদস্যের জরিমানা বাতিল, আদালতের আদেশে অব্যাহতি
চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সদস্যের জরিমানা বাতিল, অব্যাহতি

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সদস্যের জরিমানা বাতিল, আদালতের আদেশে অব্যাহতি

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় একটি পেট্রলপাম্পে সিরিয়াল ভেঙে জ্বালানি তেল সংগ্রহের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত পুলিশ সদস্য তৌহিদুল ইসলামকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিকুজ্জামান আপিল শুনানি শেষে গত রোববার এই আদেশ দেন, যা আজ সোমবার প্রকাশিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূর্বের জরিমানা আদেশ বাতিল করা হয়েছে, যা পুলিশ বিভাগে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছিল।

পূর্বের ঘটনা ও জরিমানা

এর আগে, ১৬ এপ্রিল তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মো. ছফিউল্লাহর ভ্রাম্যমাণ আদালত আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ সদস্য তৌহিদুল ইসলামকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেছিলেন। এই ঘটনাটি জেলা পুলিশে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে দেয়, কারণ পুলিশ সদস্যদের জরুরি সেবার অংশ হিসেবে জ্বালানি তেল সংগ্রহের অনুমতি ছিল। জেলা পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের ১৭ এপ্রিল একটি বিবৃতি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতি ও আলোচনা

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল–সংক্রান্ত একটি সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল প্রশাসন ও সাংবাদিকেরা বিকল্প লাইনে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তেল সংগ্রহ করে আসছিলেন, কিন্তু ১৬ এপ্রিল পুলিশ সদস্য তৌহিদুল ইসলাম জরুরি লাইনে তেল সংগ্রহ করতে গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে জরিমানা করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত পুলিশ সদস্যদের মনোবলে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং জনসেবায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়, এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ১৯ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আপিল করা হয়। পুলিশ সদস্য তৌহিদুল ইসলাম নিজেই এই আপিলটি করেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আপিল শুনানি ও আদেশ

আপিলের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি আহসান আলী আদালতকে জানান যে, আপিলকারীকে একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি দণ্ড প্রদানকারী কর্মকর্তার কথা শোনেননি এবং পরবর্তীতে আদেশ অমান্য করে জনসেবায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৯৬০–এর ১৮৮ ধারায় বিচারের নিমিত্তে অভিযুক্ত করা হয়, এবং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তবে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিকুজ্জামান মূল নথি পর্যালোচনা করে তাঁর আদেশে লেখেন যে, অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মো. ছফিউল্লাহ কর্তৃক মোবাইল কোর্ট দণ্ডাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমতাবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮–এর ৪২৩ ধারা মোতাবেক আপিলকারীর আপিল মঞ্জুর করা হলো এবং ১৬ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ বাতিল করে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তবে, জরিমানার অর্থ ফেরত প্রদান এই আদালতের এখতিয়ার–বহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়।

এই সিদ্ধান্তটি পুলিশ বিভাগের জন্য একটি স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি জরুরি সেবার ক্ষেত্রে সমন্বয় ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় ও দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে।