সোমবার জাতীয় সংসদের দ্বাদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২৭১ বিধিতে বক্তব্য
তিনি ২৭১ বিধির অধীনে বক্তব্য রাখেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর খালি আসনের দিকে ইঙ্গিত করে রুমিন ফারহানা বলেন, 'আজ (সোমবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু আমি যখন সামনের দিকে তাকাই, তখন দেখি তাঁর আসন খালি, অর্থাৎ তিনি উপস্থিত নেই। কী করা যাবে, তাঁর অনুপস্থিতিতেই আমি কথা বলব।'
টিআইবির প্রতিবেদন উদ্ধৃতি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে অপরাধের গ্রাফ অনেক বেড়ে গেছে।'
রুমিন ফারহানা বলেন, শুধু মার্চ ও এপ্রিল মাসেই দেশে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলা এবং ২ হাজার ২১৪টি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, এই সময়ে নারী ও শিশুর ওপর ৩ হাজার ৪৯৬টি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ থেকে ১০২ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, ৩০ থেকে ৩৬ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং শিশু ধর্ষণের শিকারের সংখ্যা ৪৯ থেকে ৭১ জন।
রুমিন ফারহানা বলেন, 'এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্টভাবে দেখায় যে গত তিন মাসে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর ও উদ্বেগজনক।'
তিনি আরও বলেন, সরকারের সামগ্রিক সাফল্য বা ব্যর্থতা সমানভাবে অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, 'সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার ৫০ শতাংশ এই দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে—অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা, আর বাকি ৫০ শতাংশ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করবে।'
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকলে তাঁর ব্যর্থতার রেকর্ড আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা সহজ হতো।



