লাশ নিয়ে সাত কিমি পাড়ি দিয়ে থানা ঘেরাও
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রল ছিটানো আগুনে দগ্ধ হয়ে আফাজ উদ্দিন (৬২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার লাশ নিয়ে সাত কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে এসে সৈয়দপুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
তাদের অভিযোগ, ঘটনার চার দিন পার হলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি। মামলা নিতে গড়িমসি করে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
বিক্ষোভ ও অবরোধ
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকা থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শতাধিক মানুষ লাশ নিয়ে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশ করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
এতে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। থানা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এজাহার নথিভুক্ত করলে বিক্ষুব্ধরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) ভোর চারটার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় আফাজ উদ্দিনের বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে দুর্বৃত্তরা পেট্রল ছিটিয়ে আগুন দেয়। এতে আফাজ উদ্দিন আগুনে দগ্ধ হলে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে একই দিন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত শনিবার দুপুর একটার দিকে তিনি মারা যান।
পারিবারিক বিরোধের জের
মৃতের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে গাছের ঝরাপাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার একজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সময় চঞ্চল তার বড় ভাইকে মারধর করে এবং মোবাইল ফোন ভেঙে দেয়।
ওই ঘটনার জের ধরে গত তিন জুন রাতে তারাগঞ্জ বাজারে তার ভাইকে আটকিয়ে মারধর করা হয়। পরে প্রতিশোধ নিতে ওই ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মাণাধীন ঘরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়; কিন্তু ঘটনাক্রমে ভাই সেখানে না থাকায় বৃদ্ধ বাবা এই নৃশংসতার শিকার হন।
মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ
আবু বকর সিদ্দিক আরও বলেন, বাবা ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নেওয়া হচ্ছিল না। উল্টো ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়েই আমরা লাশ নিয়ে থানায় এসেছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেছে। তবে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরে একটি এজাহার জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পুলিশ নিজেরাই এজাহার সংশোধন করে দিতে চাইলেও তারা রাজি হয়নি। সোমবার সকালে আসতে বললে তারা লাশ ও লোকজন নিয়ে থানায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। ইতোমধ্যে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।



