মামলা না নেওয়ার অভিযোগে লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, অবরোধ
মামলা না নেওয়ায় লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও ও অবরোধ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাড়িতে আগুন দেওয়ায় দগ্ধ এক ব্যক্তি মৃত্যুর তিন দিনেও মামলা না নেওয়ার অভিযোগে লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। আজ সোমবার দুপুরে সৈয়দপুর থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। তাঁদের অভিযোগ, মামলা নিতে গড়িমসি করার পাশাপাশি আপস-মীমাংসার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বিকেল চারটার দিকে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন ও থানা এলাকা থেকে সরে যান।

ঘটনার বিবরণ

৩ জুন ভোর চারটার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ার নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে দুর্বৃত্তরা পেট্রল ছিটিয়ে আগুন দেয়। তবে ঘটনার সময় নুর হোসেন সেখানে ছিলেন না। সেখানে থাকা তাঁর বাবা আফাজ উদ্দিন (৬২) দগ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে একই দিন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার বেলা একটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিক্ষোভ ও অবরোধ

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকা থেকে শতাধিক মানুষ লাশ নিয়ে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশ করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তাঁরা সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন এবং থানার সামনের শেরেবাংলা সড়ক অবরোধ করেন। এতে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উভয় পাশে অনেক যানবাহন আটকা পড়ে এবং থানা এলাকায় উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করলেও বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। তাঁরা ওসির অপসারণ দাবি করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। বিকেল চারটার দিকে ওসি এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ ও থানা ঘেরাও প্রত্যাহার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের অভিযোগ

আফাজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে গাছের ঝরাপাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুস সালামের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ হয়। সেই বিরোধের জেরে ৩ জুন ভোরে তাঁর বড় ভাই নুর হোসেনের নির্মাণাধীন ঘরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন দেয় আবদুস সালামের লোকজন। বাড়িতে থাকা নুর হোসেনের বাবা দগ্ধ হন। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যেই মারধরের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, ‘বাবা ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা থানায় অভিযোগ দিলেও তিন দিনেও মামলা নেওয়া হয়নি। উল্টো ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়েই আমরা লাশ নিয়ে থানায় এসেছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অভিযুক্তের বক্তব্য

আবদুস সালাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই এবং এ ঘটনায় তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

পুলিশের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেছে। তবে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে আসেননি। পরে একটি এজাহার জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পুলিশই এজাহার সংশোধন করে দিতে চাইলে তাঁরা রাজি হননি। আজ সকালে তাঁদের আসতে বললে তাঁরা লাশ ও লোকজন নিয়ে থানায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। ইতিমধ্যে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।