শাহ আলী মাজারে হামলা: জামায়াতের সমালোচনা ফরহাদ মজহারের
শাহ আলী মাজারে হামলা: জামায়াতের সমালোচনা ফরহাদ মজহারের

রাজধানীর শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, 'এখন তো প্রমাণিত হচ্ছে, মন্দ কাজগুলো আপনারাই করে মাজারের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।' রোববার (১৭ মে) দুপুরে মিরপুরের শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে ফরহাদ মজহার

শাহ আলী মাজারে ভক্ত ও আশেকানদের ওপর হামলার প্রতিবাদে 'সাধুগুরুভক্ত ও ওলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ' এবং 'ভাববৈঠকী' যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে। সভায় ফরহাদ মজহার বলেন, 'অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত। আমি দুঃখ পেয়েছি শুনে। আমি পত্রিকায় দেখেছি। আমি শফিক ভাইকে (জামায়াত আমির) এর আগেও বলেছি, নির্বাচনের আগে আপনি কিসের ভিত্তিতে বলেছিলেন যে ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম? আপনাকে তো আমি বাহাসে ডেকেছিলাম, কোনো টেলিভিশন শোতে। আপনি তো আসেন নাই। আপনারা বলছেন, গান হারাম। বাহাসে ডাকতেছি—আসেন না। কোথায় গান হারাম? কোন আয়াত নিয়ে বলতেছেন গান হারাম? কোন ধরনের গান হারাম? তর্ক আছে।'

জামায়াতের উদ্দেশে ফরহাদ মজহার

জামায়াতের উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, 'এর আগেও বলেছি, মাজারে যেসব খারাপ কাজ বলে আমরা মনে করি, অনৈতিক কাজ এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার কিন্তু এখন তো প্রমাণিত হচ্ছে, মন্দ কাজগুলো আপনারাই করে মাজারের ওপর দোষ দিচ্ছেন। এটা তো হবে না, এটা চলবে না।' পাগল না থাকলে বিপ্লব হবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'মাজারের পাগলদের ওপর হামলা করা হয় কিন্তু জুলাই গণ–অভ্যুত্থান যখন হয়েছে, তখন এই পাগলেরাই বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছে। পাগল না হলে নিজের জীবন সে কী করে দিয়ে দিল? পাগল না থাকলে বিপ্লব হবে না। পাগল না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হবে না। পাগল না থাকলে সমাজ গঠিত হবে না।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফরহাদ মজহার বলেন, '৫ আগস্ট জীবন দিয়ে আমরা এমন রাষ্ট্র পাই নাই। এই রাষ্ট্রে আমরা শহীদ হইয়া, পঙ্গু হইয়া পাই নাই। আমাদের মনে অনেক ব্যথা আছে। তারেক রহমান, অনেক ব্যথা আছে। আপনি ছিলেন লন্ডনে। আপনি বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। এ দেশের গরিব মানুষের ব্যথা বোঝার চেষ্টা করেন। নইলে উড়ে যাবেন।' প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, 'আপনি এখানে (দেশে) আসার আগেই যখন আমরা ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান করেছি, তখন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী এই দেশে ঢুকবার জন্য লোকজন নিয়ে সীমান্তে এসেছিল। এসে প্রমাণ করতেছিল সেনাবাহিনীকে যে এই দেশের হিন্দুরা নাকি তাদের সেনাবাহিনীর গায়ে অ্যাসিড মারছে। এখানে তারা ঢুকতে চেয়েছিল। ভুলে যাবেন না। এখন তারা বলছে যে বাংলাদেশে এ রকম মাজার ভাঙা হয়, এ রকম যে ইসলামী সন্ত্রাস, এই তৌহিদি জনতা এদের তো রাষ্ট্রে রাখবার কোনো দরকার নেই। এমনকি কাশ্মীরেও যে অধিকারটুকু পাইছিল, ওই অধিকারও তারা আপনাদের দেবে না। ফলে আপনারা যারা মাজার ভাঙছেন, আপনারা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে মাজার ভেঙেছেন।'

বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ মজহার বলেন, 'তারা মসজিদ ভাঙছে, বিভিন্ন ধর্মের এলাকা ভাঙছে, মানুষের ভক্তির জায়গা ধ্বংস করছে এবং পুরো ভারতবর্ষকে একটা বিরোধের মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। একটা যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করছে। পুরো উপমহাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করছে। এই যেই রাজনীতি, এই রাজনীতির পক্ষে দয়া করে এই মাজারে আঘাত করে এটাকে ত্বরান্বিত করবেন না। শুভেন্দু অধিকারী এখন কিন্তু পশ্চিম বাংলায় বিজেপি দলের মুখ্যমন্ত্রী তিনি। বিজেপির যে নীতি ইসলাম নির্মূল নীতি, এই নীতি তিনি বাস্তবায়ন করবেন।'

মাজার নিয়ে তিন দফা দাবি

সমাবেশে মাজার নিয়ে তিন দফা দাবি তুলে ধরে ফরহাদ মজহার বলেন, 'ঐক্যবদ্ধভাবে মাজারের পাগলদের জন্য রাজনীতি করতে হবে। মাজারের ইজারাব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। মাজারে যা কিছু আসে, সেটা যেন এখানকার গরিব মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মাজারের মসজিদের খতিব নিয়োগ ও পরিচালনা কমিটি করা হবে, তাদের অবশ্যই তরিকাপন্থী হতে হবে। তরিকাপন্থী না হলেও তরিকার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে।'

হামলার ঘটনা

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গভীর রাতে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে জিয়ারত ও মানতের কার্যক্রম চলছিল। মামলার বাদী রেশমি বেগম অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের ১০০ থেকে ১৫০ নেতা-কর্মী মাজারে প্রবেশ করে হামলা চালান। তবে জামায়াত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মী বলে জানতে পেরেছি।'