সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় এক বিধবা নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবুল কাশেম হারুন নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির এই নেতার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, হত্যার হুমকি এবং বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মানবেতর অবস্থায় রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগ দাখিল
গত ৯ মার্চ ছাতক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার। অভিযোগে আবুল কাশেম হারুনকে প্রধান আসামি করে নিলয় ও মনি বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ দাখিলের দুই মাস পরেও পুলিশ কোনো তদন্ত শুরু করেনি বলে জানা গেছে।
নির্যাতনের বিবরণ
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১১ মে, ২৫ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯ ফেব্রুয়ারি ও ৯ মার্চ—বিভিন্ন সময়ে আবুল কাশেম হারুন নিজের ছোট চাচি জেসমিন আক্তারের ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তার গায়ে হাত দেন এবং কুপ্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগীকে ‘মারধর, ভয়ভীতি, গুম করে ফেলবো, হত্যা করবো, পতিতালয়ে বিক্রি করে দেব’—এমন হুমকি নিয়মিত দেওয়া হতো।
প্রতিশোধ হিসেবে বিদ্যুৎ-পানি বিচ্ছিন্ন
জেসমিন আক্তারের দাবি, কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর প্রতিশোধ হিসেবে তার বসত ঘরের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হয় এবং সুপেয় পানির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এভাবে তাকে একপ্রকার অবরুদ্ধ করে মানবেতর জীবনে ফেলে রাখা হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর নির্যাতন
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার প্রয়াত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব শাহ মো. লিয়াকত আলী খানের স্ত্রী। ২০২৫ সালের ১১ মে লিয়াকত আলী মারা যাওয়ার মাত্র ৪০ দিনের মধ্যে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকার সুযোগে তার ভাতিজা হারুনের কুদৃষ্টি পড়ে তার ওপর। এরপর থেকে তিনি নানামুখী অত্যাচার, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। গ্রামবাসী বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চাইতে গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে আবুল কাশেম হারুনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পুলিশ ও চেয়ারম্যানের বক্তব্য
ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ইউএনও বাদী-বিবাদী দুই পক্ষকে নিয়ে চেয়ারম্যানকে বসার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে দুই পক্ষের বক্তব্য ইউএনওকে জানানোর কথা বলা হয়েছে।
ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ২ মে থেকে ইউএনওর নির্দেশে আসামিকে একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তিনি কার্যালয়ে আসেননি।



