ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর একটি ভুট্টাখেত থেকে চার বছরের এক কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে (১৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণের পর আতঙ্কে শিশুকে হত্যা করে লাশ ভুট্টাখেতে ফেলে রাখে বলে পুলিশকে জানিয়েছে ওই কিশোর।
ঘটনাটি জানাজানি হলে উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত শিশুর বাড়ি উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া আনসার ডাঙ্গী গ্রামে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকাল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। গ্রামবাসী জানান, একই গ্রামের কিশোর প্রায়ই শিশুটিকে কোলে নিয়ে খেলাধুলা করত। বুধবার বিকালেও তাকে শিশুটিসহ এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়; কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় সন্দেহ দানা বাঁধে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা ওই কিশোরকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে সে শিশুটিকে হত্যা করে ভুট্টাখেতে ফেলে রাখার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশের বক্তব্য
রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কিশোর স্বীকার করেছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নিজেকে রক্ষা করতে আতঙ্কিত হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে রেখেছিল। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী চরম উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং কিশোরের বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।



