চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় আবু কাউসার আহমেদ (২৭) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিচয় ও পটভূমি
জানা গেছে, নিহত আবু কাউসার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের আকবর শাহ থানার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক। ফেসবুকে তার সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগরীর সাবেক কয়েকজন নেতা মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ফেসবুকে দাবি করেছেন, কাউসারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
তবে হত্যার দাবিকে গুজব বলছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, কাউসার আত্মহত্যা করেছেন। আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল সিদ্দিকী দাবি করেছেন, নিহত যুবক সংগঠনটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় তার ‘রহস্যজনক মৃত্যুতে’ শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে আবু কাউসারের লাশ উদ্ধার করি। তার বাসা নগরীর পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকায়। মারা যাওয়া যুবক ওই এলাকার বিএসআরএম কারখানায় পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার মানসিক সমস্যা ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।’
ময়নাতদন্তের ফলাফল
পাহাড়তলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মরদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তারপরও নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার অনেকগুলোই ‘প্রপাগান্ডা’। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
ওসি জানান, মঙ্গলবার মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।



