বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) কে তাদের মোবাইল অ্যাপের হোমপেজে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট অপশন প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।
নগদ ব্যবহার কমাতে ডিজিটাল লেনদেনের প্রচারণা
এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে নগদ ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন সহজ ও জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে। শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এটি ইতিমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য।
গ্রাহক নিবন্ধন ও বাংলা কিউআর ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মোবাইল অ্যাপে গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে অ্যাপের হোমপেজে বাংলা কিউআর অপশন এমনভাবে প্রদর্শন করতে হবে যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই এটি খুঁজে পেতে ও ব্যবহার করতে পারেন।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব ট্রেড লাইসেন্সধারী খুচরা অ্যাকাউন্টধারীদের বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কিউআর চ্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর মাধ্যমে একক কিউআর-ভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের মধ্যে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৩১ জুলাই ২০২৬ সালের মধ্যে মোবাইল অ্যাপে নতুন গ্রাহক নিবন্ধন ও বাংলা কিউআর চ্যানেলে নতুন ব্যবসায়ী অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সেই পরিকল্পনা ৩ জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ
মাঠপর্যায়ে ডিজিটাল পেমেন্ট কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরেকটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি ব্যাংক শাখায় একজন কর্মকর্তাকে ‘বাংলা কিউআর ব্র্যান্ডিং অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ বা দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রচার, ব্যবসায়ীদের সংযুক্ত করা এবং গ্রাহক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করবেন।
একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আগে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে সব মার্চেন্ট পয়েন্টে একক কিউআর নিশ্চিত করার সময়সীমা বহাল থাকবে। এছাড়া পূর্ববর্তী সার্কুলারগুলোর অন্যান্য নির্দেশনাও কার্যকর থাকবে।



