অ্যাপলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন: টিম কুক সিইও পদ ছাড়ছেন
দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের সফল যাত্রার পর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক তার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া কুকের নেতৃত্বে আইফোন-কেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে কোম্পানিটির বাজারমূল্য বেড়েছে ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি, যা একটি অভাবনীয় সাফল্য।
নতুন সিইও হিসেবে জন টার্নাসের আগমন
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬৫ বছর বয়সী টিম কুক সিইওর দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান জন টার্নাসের হাতে। এক বিবৃতিতে কুক বলেন, "অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং এমন একটি অসাধারণ প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।" তবে দায়িত্ব ছাড়লেও কুক অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জন টার্নাসের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অ্যাপলের পরবর্তী সিইও ৫০ বছর বয়সী জন টার্নাস গত ২৫ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রয়েছেন। গত পাঁচ বছর তিনি আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকের প্রকৌশল কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেছেন, যা তাকে কুকের উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে প্রধান প্রার্থী করে তুলেছিল। এক বিবৃতিতে টার্নাস বলেন, "অ্যাপলের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার এই সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।" তার নেতৃত্বে অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্বে এআই চ্যালেঞ্জ ও অ্যাপলের অবস্থান
অ্যাপলের এই শীর্ষ নেতৃত্ব পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন চলছে। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচনের পর শিল্পখাতে বর্তমানে এআই-এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এআই ক্ষেত্রে শুরুর দিকে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। প্রায় দুই বছর আগে ঘোষিত নতুন ফিচার বাস্তবায়নে বিলম্বের পর চলতি বছর আইফোনের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-কে আরও কার্যকর করতে গুগলের সহায়তা নিতে হয়েছে অ্যাপলকে, যা একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
টিম কুকের উত্তরাধিকার ও অ্যাপলের উত্থান
স্টিভ জবসের মতো দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, তার রেখে যাওয়া উদ্ভাবন ও আইফোনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অ্যাপলকে অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে গেছেন টিম কুক। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা অ্যাপল আজ টিম কুকের হাত ধরে অকল্পনীয় সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে। কুকের নেতৃত্বে কোম্পানিটি শুধু আর্থিকভাবে শক্তিশালীই হয়নি, বরং বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি বাজারে একটি আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
এই পরিবর্তন অ্যাপলের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যেখানে জন টার্নাসের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এআই ও অন্যান্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে আরও অগ্রগতি সাধন করতে পারে। টিম কুকের অবদান অ্যাপলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, এবং তার পদত্যাগ প্রযুক্তি শিল্পে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।



