ময়মনসিংহে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ শিশু ভর্তি, মোট চিকিৎসাধীন ৮৫
ময়মনসিংহে হামে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ শিশু ভর্তি, চিকিৎসাধীন ৮৫

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ শিশু ভর্তি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ নিয়ে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছে ২৮ শিশু, তবে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি ও চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮৫ শিশু। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৬৮৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮৫ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দুজন করে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশুরা ভর্তি হতে শুরু করে। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে, যা বর্তমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ব্যবস্থা ও আইসোলেশন ওয়ার্ড

হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে। এই ওয়ার্ডে তিনটি মেডিকেল দল গঠন করে শিশুদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে শিশুদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন।

মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান আরও উল্লেখ করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে কোনো শিশু মারা না গেলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকা কর্মসূচি জোরদার করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামের প্রাদুর্ভাব ও সতর্কতা

হাম একটি সংক্রামক রোগ যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। লক্ষণগুলির মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লাল দাগ দেখা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের শিশুদের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগে হামের এই প্রাদুর্ভাব স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতা প্রচারের মাধ্যমে পরিস্থিতি শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে আসবে।