দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় আইডিয়া পিচিং প্রতিযোগিতা ‘ক্রিয়েভেঞ্চার ৪.০’-এর কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৩৩টি দলের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত ২০টি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
আয়োজন ও অংশগ্রহণ
শনিবার (২৭ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব (ডিইউইডিসি)। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬২টি জেলা থেকে ৩৪৮টি দল নিবন্ধন করেছিল। সেখান থেকে বাছাই করা ৩৩টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে অংশ নেয়।
বক্তব্য ও মূল্যায়ন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিইউইডিসি-এর মডারেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রিয়েভেঞ্চার’ তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতে এ আয়োজন আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডিইউইডিসি-এর সভাপতি সিফাত আল রশিদ বলেন, শুধু ভালো ধারণা থাকলেই হয় না, সেটি বাস্তবায়নের সক্ষমতাই একজন উদ্যোক্তার সাফল্য নির্ধারণ করে। প্রতিযোগিতার ফলাফলই শেষ কথা নয়, ধারাবাহিক চেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্ভাবনী ধারণা
প্রতিযোগিতায় পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং, কৃষি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধান, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গ্যাস নিরাপত্তা, ডিজিটাল পেমেন্ট সুরক্ষা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য নেভিগেশন প্রযুক্তি এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করা হয়।
মূল্যায়ন ও সেমিফাইনাল
বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পাঁচজন মেন্টর প্রতিযোগীদের পিচ মূল্যায়ন করেন। ‘অ্যাসেনশন পাস’-এর মাধ্যমে ১০টি দল সরাসরি সেমিফাইনালে উন্নীত হয়। পরে অকশন রাউন্ড থেকে আরও ১০টি দল নির্বাচিত হয়। সব মিলিয়ে ২০টি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।
অনুষ্ঠানে ডিইউইডিসি-এর সাধারণ সম্পাদক নিলয় মজুমদার বলেন, বাস্তব উদ্যোক্তা পরিবেশের অভিজ্ঞতা দিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ক্লাবভিত্তিক এ ধরনের উদ্যোগ দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।



