ইনস্টাগ্রামের রিলসে লাইক দেওয়া থেকে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব রূপ নেয় প্রেমে, এরপর তা গড়ায় ‘বিয়ে’ পর্যন্ত! তবে বিয়ের পর সেই ১৪ বছর বয়সী কিশোর একসঙ্গে থাকতে অস্বীকৃতি জানালে সোজাসুজি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী চার সন্তানের এক জননী। ভারতের উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জে এমন এক অদ্ভুত ও চোখ কপালে তোলার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
নৌতনওয়া থানার পুলিশ জানায়, আদি গোরাখপুরের বাসিন্দা ওই নারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, ইনস্টাগ্রাম রিলসে একে অপরের পোস্টে লাইক দেওয়ার মাধ্যমে চেন্নাইয়ে বাবার সঙ্গে থাকা ওই কিশোরের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ওই কিশোর তাকে ‘বিয়ে’ করে। কিন্তু এখন সে সম্পর্ক বজায় রাখতে বা একসঙ্গে থাকতে রাজি হচ্ছে না। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগকারী নারী চার সন্তানের মা এবং ওই কিশোর তার বড় ছেলের চেয়েও অন্তত পাঁচ বছরের ছোট।
পুলিশের পদক্ষেপ
এমন অদ্ভুত অভিযোগের পর পুলিশ কোনও আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা দায়ের না করে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করে। নওতনওয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বসন্ত সিং জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতা ও আলোচনার পর ওই নারী নিজেই জানান যে তিনি এই বিষয়ে কোনও আইনি পদক্ষেপ চান না। কাউন্সেলিং শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আর কখনও একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ না করার বিষয়ে সম্মত হয় এবং বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়।
সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্বাভাবিক বয়সের ব্যবধানের এই ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এমন জটিলতা ও সম্পর্ক এড়াতে সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর অভিভাবকদের নজরদারির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে পুলিশ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে



