প্রথমবারের মতো আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে (এপিএআইও) ইতিহাস গড়ে ৩টি স্বর্ণপদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ দল। ৪ জুলাই শনিবার রাজধানীর পান্থপথে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিতে এই দলকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিরা
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাটাসফট সিস্টেমের প্রেসিডেন্ট এম মনজুর মাহমুদ, মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আনিস রহমান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সারোয়ার হোসেন মোল্লাহ, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) প্রেসিডেন্ট মুনির হাসান, বাংলাদেশ দলের কোচ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এসোসিয়েট প্রফেসর মো. আজম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল এবং বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার। এছাড়া মাইক্রোসফটের এআই লিড সাদিদ হাসান ও ড. এহসানুল হক ভিডিও বার্তায় পদকজয়ীদের উৎসাহ প্রদান করেন।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অসাধারণ সাফল্য
চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান ও ইরানের মতো প্রযুক্তিতে শীর্ষস্থানীয় দেশসহ এই অঞ্চলের মোট ১৮টি দেশের ১২৯ জন প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশের তিন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় মাত্র ১০টি স্বর্ণপদক দেওয়া হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশ অর্জন করে ৩টি। কোনো দেশের পক্ষে এটাই সর্বোচ্চ স্বর্ণপদক জয়ের রেকর্ড। অন্য কোনো দেশ দুটির বেশি স্বর্ণপদক পায়নি এই আসরে।
স্বর্ণপদক জয়ী শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশের হয়ে এই গৌরব বয়ে আনে হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ত্রিদিব রায়। আন্তর্জাতিক আসরের চূড়ান্ত র্যাংকিংয়ে তারা যথাক্রমে ৪র্থ, ৫ম ও ৯ম স্থান অর্জন করে।
অন্যান্য সম্মাননা ও আয়োজকরা
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদকজয়ী তিন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সম্মানজনক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অন্য প্রতিযোগী, দলের কোচ এবং মেন্টরদেরও সম্মাননা জানানো হয়। শুরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক জয়ীদের নিয়ে আলোচনা করেন মুনির হাসান। তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগে আমরা এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু করি। এ বছর প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আমাদের ছেলেরা রেকর্ড গড়েছে। তাদের সবাইকে অভিনন্দন।’
প্রস্তুতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
গত এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়ে মে মাসে প্রথমার্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে আঞ্চলিক পর্ব ও ১৬ মে বিইউবিটিতে জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০–২৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্পের মূল্যায়নের পর এই দল নির্বাচন করা হয়। গত ১৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট থেকে অনলাইনে ভিডিও প্রক্টরিং ও স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বাংলাদেশ দলের ৮ জন শিক্ষার্থী। ৬ ঘণ্টার এই প্রতিযোগিতায় বোরিয়াম নামে প্ল্যাটফর্মে ৪টি পৃথক মেশিন লার্নিং সমস্যার সমাধান করে প্রতিযোগীরা।
আয়োজক ও স্পন্সররা
প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। প্লাটিনাম স্পন্সর ও জাতীয় পর্বের হোস্ট ছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি এবং পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ছিল রিভ চ্যাট। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল ব্রেইন স্টেশন ২৩, সিলভার স্পন্সর মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ ও ক্রিয়েটিভ আইটি, ব্রোঞ্জ স্পন্সর বিটনা এবং নলেজ পার্টনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট। ম্যাগাজিন পার্টনার ছিল কিশোর আলো এবং বিজ্ঞানচিন্তা, টিভি পার্টনার দীপ্ত টিভি। অন্যান্য পার্টনার হিসেবে ছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি, রকমারি ডট কম এবং জাদু পিসি। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। সহযোগিতায় ছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ।



