ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে 'এআই হ্যাকাথন ২০২৬' আয়োজন
ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজন করতে যাচ্ছে 'এআই হ্যাকাথন ২০২৬'। এই প্রতিযোগিতাটি আগামী ১১-১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ল্ড এআই অ্যালায়েন্স (ডাবলুএএ) এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য বৈশ্বিক সুযোগ উন্মুক্ত করবে।
প্রেস কনফারেন্সে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষা খাতের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সন্মানিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড এআই অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ও স্কেলবিল্ড এআই-এর সিইও উজ্জ্বল রায়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ নাদির বিন আলী, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফখরে হোসেন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ রাশেদ হায়দার নূরী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইমরান মাহমুদ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. তাসলিম আরেফিন এবং কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রধান মো. সারওয়ার হোসাইন মোল্লা প্রমুখ।
হ্যাকাথনের লক্ষ্য ও কাঠামো
এই হ্যাকাথনের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের একত্রিত করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করা। প্রতিযোগিতাটি একটি ৪৮ ঘণ্টার ইনটেনসিভ হ্যাকাথন হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে নির্বাচিত দলগুলো তাদের এআই প্রজেক্ট তৈরি ও উপস্থাপন করবে। অংশগ্রহণের জন্য নিম্নলিখিত নিয়মাবলি অনুসরণ করতে হবে:
- ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
- প্রতিটি দলে ৩ জন শিক্ষার্থী এবং ১ জন মেন্টর (একাডেমিক বা ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞ) থাকতে হবে।
- প্রতিযোগিতাটি ৩টি ট্র্যাক-এ বিভক্ত হয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
নিবন্ধন ও পুরস্কার ব্যবস্থা
আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের অনলাইনে নিবন্ধন করে একটি কনসেপ্ট নোট জমা দিতে হবে। বিশেষজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী প্রস্তাবনা মূল্যায়ন করে নির্বাচিত দলগুলোকে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাবে। পুরস্কার ও সুযোগের মধ্যে রয়েছে:
- হ্যাকাথনে মোট দুই লাখ টাকার নগদ পুরস্কার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
- বিজয়ী দলগুলো ওয়ার্ল্ড এআই অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে তাদের প্রজেক্টকে স্টার্টআপে রূপান্তরের জন্য ফান্ডিং, মেন্টরশিপ ও ইনকিউবেশন সুবিধা লাভের সুযোগ পাবে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও গুরুত্ব
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিশ্বাস করে যে, 'এআই হ্যাকাথন ২০২৬' তরুণ প্রজন্মকে কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তোলাই নয়, বরং তাদেরকে উদ্ভাবক, সমস্যা সমাধানকারী এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে রূপান্তরিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি শক্তিশালী ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের বৈশ্বিক মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে অবদান রাখবে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



