চলচ্চিত্র–দুনিয়ার সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অস্কারের আয়োজক সংস্থা দ্য একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিরুদ্ধে নতুন এক ঘোষণা দিয়েছে। একাডেমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেবল মানুষের অভিনয় ও চিত্রনাট্যই অস্কার জয়ের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের মুখে গত শুক্রবার অস্কারের নীতিমালায় এই যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়মের বিস্তারিত
চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্রের মনোনয়নের প্রক্রিয়ায় এআইয়ের প্রভাব কতটুকু থাকবে, তা নির্ধারণ করতেই এই নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে। একাডেমি তাদের সংশোধিত যোগ্যতা নির্ধারণী শর্তাবলিতে উল্লেখ করেছে, অস্কারের জন্য মনোনীত হতে হলে অভিনয় অবশ্যই প্রমাণযোগ্যভাবে মানুষের মাধ্যমে সম্পাদিত হতে হবে। লেখা বা চিত্রনাট্য অবশ্যই মানুষকে রচনা করতে হবে। একাডেমি এই পরিবর্তনকে অস্কারের নিয়মের একটি যুগান্তকারী বা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছে।
এআইয়ের ব্যবহার ও উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের কাজকে প্রতিস্থাপন বা পুনর্নির্মাণে এআই টুল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বছর প্রয়াত অভিনেতা ভ্যাল কিলমারকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আবার একটি সিনেমার প্রধান চরিত্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, যুক্তরাজ্যের অভিনেতা ও কমেডিয়ান এলাইন ভ্যান ডার ভেলডেন জানিয়েছেন, তিনি গ্লোবাল সুপারস্টার হওয়ার জন্য এরইমধ্যে কৃত্রিম এআই অভিনেতা তৈরি করেছেন। প্রায় দুই বছর আগে হলিউডের লেখকদের ইউনিয়ন যখন ধর্মঘটে গিয়েছিল, তখন অন্যতম প্রধান দাবি ছিল সিনেমার চিত্রনাট্য লেখার ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। হলিউডের অনেক স্টুডিও, অভিনেতা ও লেখক ইতিমধ্যে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে বেশ কিছু এআই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
তবে একাডেমি চলচ্চিত্রে এআইয়ের সামগ্রিক ব্যবহারের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। ফলে অভিনয় ও লেখা ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে নির্মাতারা এআই টুল ব্যবহার করতে পারবেন। একাডেমির ভাষ্যমতে, বিভিন্ন টুল মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সাহায্যও করবে না, আবার ক্ষতির কারণও হবে না। একাডেমি ও এর প্রতিটি শাখা সৃজনশীলতার এই অর্জনকে বিচার করবে। পুরস্কার দেওয়ার সময় সৃজনশীল কাজের মূলে একজন মানুষের ভূমিকা কতটুকু ছিল, তা বিশ্লেষণ করা হবে।
প্রযুক্তির ব্যবহার ও সৃজনশীলতা
যদিও চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন কিছু নয়। ১৯৯০–এর দশক থেকেই কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারি বা সিজিআইর ব্যাপক ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে সিজিআইকে একটি কায়িক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নিখুঁত করার পেছনে মানুষের হাত থাকে। অন্যদিকে এআই টুল সাধারণত সাধারণ প্রম্পট ব্যবহারের মাধ্যমে কাজটিকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি



