ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে চলমান একটি অপরাধ তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিশাম আবুঘরবেহ লাশ গুম করার জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিলেন, আদালতের নথিতে এমন তথ্য প্রকাশের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডাব্লিউজিএমই সিবিএস ১৩ এ খবর জানিয়েছে।
তদন্তের নতুন মাত্রা
সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল উথমিয়ার ঘোষণা করেন, বাংলাদেশি নাগরিক জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগীরা নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই অভিযুক্ত ঘাতক আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে লাশ গুম, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ট্র্যাকিং পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান করেছিলেন। এর আগেও একটি গণগুলিবর্ষণ চালানোর ঘটনায় চ্যাটজিপিটির ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ওপেনএআইয়ের প্রতিক্রিয়া
ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রিউ পুসাতেরি শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে কোম্পানিটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
স্বজনদের দাবি
নিহত লিমন ও বৃষ্টির স্বজনরা অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা অভিযুক্তের বসবাসরত অফ-ক্যাম্পাস আবাসন অ্যাভালন হাইটস-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের অভিযোগ, সেখানে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ব্যবস্থা ছিল না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভাড়া দেওয়ার আগে তার কোনও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
ঘটনার বিবরণ
২৭ বছর বয়সী লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা যায়। পরে লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে কালো ট্র্যাশ ব্যাগে পাওয়া যায়, যা অভিযুক্তের কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যাগের সঙ্গে মিলে গেছে বলে জানা গেছে। বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ থাকলেও পুলিশ কিছু পরিচয়হীন দেহাংশ উদ্ধার করেছে।
অভিযুক্তের অবস্থা
হিশামকে গত শুক্রবার একটি ঘরোয়া সহিংসতার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে সে ফ্যালকেনবার্গ রোড জেলে বন্দি। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার, মরদেহ সরানো, প্রমাণ লোপাটসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথিতে রক্তের দাগ এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্যকে প্রমাণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।



