পবিত্র হজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সৌদি আরব। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে পবিত্র স্থানগুলোতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, আইন লঙ্ঘন শনাক্ত এবং অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ঠেকাতে এই আধুনিক প্রযুক্তি মোতায়েন করা হয়েছে।
সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রযুক্তি ব্যবহার
সৌদির দৈনিক পত্রিকা ওকাজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র স্থানগুলোতে সমবেত হওয়া লাখ লাখ হাজির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার আওতায় ড্রোন, এআই এবং উচ্চ-প্রযুক্তির ক্যামেরা সমন্বিত একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছে।
ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও ট্র্যাকিং
হজের নিয়মনীতি লঙ্ঘনকারীদের ট্র্যাকিং ও গ্রেফতারের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ ড্রোন ব্যবহার করছে। এর পাশাপাশি ‘অনুমতি ছাড়া কোনও হজ নয়’ স্লোগানের অধীনে পবিত্র স্থানগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা তদারকি করার কাজে ফিক্সড-উইং ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।
পত্রিকাটি জানিয়েছে, ড্রোন ব্যবহারের ফলে নিরাপত্তা বাহিনী খুব দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে বিশাল এলাকা জুড়ে নজরদারি চালাতে পারছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত দলগুলো সন্দেহজনক গতিবিধি এবং অনুপ্রবেশের চেষ্টা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পেয়ে যাচ্ছে।
স্মার্ট নজরদারি ও থার্মাল ইমেজিং
এই আধুনিক ব্যবস্থার মধ্যে স্মার্ট নজরদারি নেটওয়ার্ক, উচ্চ-রেজোলিউশনের ক্যামেরা এবং থার্মাল ইমেজিং ডিভাইসও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। থার্মাল ক্যামেরাগুলো বিশেষ করে রাতে বা ধোঁয়াশার মধ্যে হাজিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
এআই-চালিত ক্রাউড অ্যানালাইসিস ও ফেসিয়াল রিকগনিশন
এছাড়া, ভিড় জমার আগেই তা অনুমান করতে এবং অতিরিক্ত ভিড় থাকা রাস্তা থেকে হাজিদের বিকল্প পথে সরিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ক্রাউড অ্যানালাইসিস সিস্টেমের ওপর নির্ভর করছে। পাশাপাশি ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি হাজিদের নিবন্ধন তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে।
হজের গুরুত্ব ও সময়সূচি
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ হলো পবিত্র হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম সব মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। চলতি বছর ২৫ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে হজের নিরাপত্তা ও সেবার মান আরও উন্নত হবে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড



