নোবেলজয়ী লেখক ওলগা তোকরচুক তার লেখালেখির প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। সম্প্রতি পোলিশ ভাষায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার সর্বশেষ উপন্যাস রচনার সময়ও তিনি এআইয়ের সহায়তা নিয়েছেন।
এআই সহায়তায় উপন্যাস রচনা
সাহিত্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম লিটহাব জানায়, সাক্ষাৎকারটি প্রথমে পোলিশ ভাষায় প্রকাশিত হয় এবং পরে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় আসে। লেখক মাক্স সিপোভিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্লুস্কাইয়ে সাক্ষাৎকারটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনুবাদ করে সামনে আনেন, যা ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।
সাক্ষাৎকারে ওলগা তোগারচুক বলেন, তিনি লেখার সময় একটি উন্নত এআই মডেলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, উপন্যাসের চরিত্রদের অতীত সময়ের প্রেক্ষাপটে কী ধরনের গান শোনা হতে পারে—এ ধরনের প্রশ্নও তিনি এআইকে করেছেন। তার ভাষায়, এআই অনেক সময় সৃজনশীল ধারণা ও তথ্যগত সহায়তা দিয়েছে।
এআইয়ের সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা
তিনি আরও বলেন, তথ্যভিত্তিক বা অর্থনৈতিক বিষয়ের ক্ষেত্রে এআইয়ের সীমাবদ্ধতা ও ভুল থাকতে পারে, তবে সাহিত্যিক কল্পকাহিনির ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর সহায়ক টুল হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, দীর্ঘ আখ্যান লেখার ক্ষেত্রে এআই ভবিষ্যতে লেখকদের কাজকে সহজ করতে পারে এবং মানব–যন্ত্র সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তোকরচুক দাবি করেন, লেখক ও ভাষা মডেলের মধ্যে পারস্পরিক কাজের মাধ্যমে সৃজনশীল চিন্তার পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি নিজেও একটি উন্নত ভাষা মডেল ব্যবহার করেছেন বলে জানান এবং এর মাধ্যমে নিজের চিন্তাভাবনা ও কল্পনার দিগন্ত প্রসারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
সাহিত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা
তবে সাক্ষাৎকারে তিনি এটিও ইঙ্গিত দেন যে, তার মতে সাহিত্যিক কাজের ধারা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং পাঠকদের আগ্রহও আগের মতো জটিল দীর্ঘ উপন্যাসে নাও থাকতে পারে। এজন্য তিনি এক ধরনের পুরোনো সময়ের প্রতি নস্টালজিয়া বা আক্ষেপের কথাও প্রকাশ করেন।



