ছবি তৈরি বা কোড লেখার মতো কাজের গণ্ডি পেরিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি আরও জটিল এক ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, সেটি আগে থেকেই শনাক্ত করতে সক্ষম একাধিক এআই মডেল তৈরির কাজ শুরু করেছে মেটা। মেটার এই গবেষণা মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কোর মেমোরি পডকাস্টে মেটার প্রধান এআই কর্মকর্তার বক্তব্য
সম্প্রতি ‘কোর মেমোরি’ পডকাস্টে মেটার প্রধান এআই কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ওয়াংয়ে জানান, মেটা একাধিক এআই মডেল নিয়ে কাজ করছে, যা মানুষের মস্তিষ্ক ছবি, ভিডিও বা শব্দের প্রতি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, তা আগে থেকেই অনুমান করতে পারবে। সহজভাবে বললে, ভবিষ্যতের এআই মানুষের আবেগ, অনুভূতি কিংবা মানসিক প্রতিক্রিয়া বোঝার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। ‘ফাউন্ডেশন মডেলস ফর ব্রেন প্রেডিকশন’ নামের এআই মডেলগুলো মানুষের মস্তিষ্কের কাজের ধরন বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া অনুমান করার চেষ্টা করবে। নতুন এই প্রযুক্তি এআই সক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রযুক্তিবিশ্বে নতুন আলোচনা
মেটার এই উদ্যোগ প্রযুক্তিবিশ্বে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ, এখন পর্যন্ত এআই ব্যবস্থাগুলো মূলত ব্যবহারকারীর আচরণগত তথ্য বিশ্লেষণ করে কাজ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কার্যপ্রণালিতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস, লাইক, সার্চ বা অনলাইন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে আধেয় বা কনটেন্ট প্রদর্শন করে থাকে। কিন্তু মস্তিষ্কভিত্তিক প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ প্রযুক্তি উন্নত হলে ভবিষ্যতে আচরণগত তথ্য ছাড়াই ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া অনুমান করতে পারবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
স্বাস্থ্যসেবায় সম্ভাব্য ব্যবহার
প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এ ধরনের প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা, স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণা, সহায়ক যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কথা বলতে অক্ষম ব্যক্তি বা স্নায়ুবিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের সহায়তায় ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে।



