বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট প্রকল্প, যা আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট হিসেবে পরিকল্পিত, তার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বুধবার সংসদে এ তথ্য জানান।
প্রথম স্যাটেলাইটের সাফল্য
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি সব টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার, ডাইরেক্ট-টু-হোম (ডিটিএইচ) সেবা, ভিএসএটি সেবা, বিদেশে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ বিক্রি এবং দুর্যোগকালীন জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান সম্ভব হয়েছে।
দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের লক্ষ্য
দেশের পরবর্তী স্যাটেলাইটটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট হিসেবে উৎক্ষেপণের কাজ চলছে। এটি কৃষি, মৎস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রগামী জাহাজ ট্র্যাকিং, নীল অর্থনীতি ও জাতীয় সমুদ্র নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএসসিএলের আর্থিক তথ্য
মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) আর্থিক তথ্য উপস্থাপন করেন। বিগত পাঁচ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ মোট ৭৬৪.১০ কোটি টাকা রাজস্ব ও ১৬৩.৯৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএসসিএল ১৮৭.০৭ কোটি টাকা রাজস্ব ও ৩৮.৩৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজস্ব ছিল ১৬৯.৫৬ কোটি টাকা ও মুনাফা ২৯.৬৪ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটি ১৪৭.৯৯ কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও ৭৩.৫৭ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়। এর আগে ২০২১-২২ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে যথাক্রমে ১৩০.৩৬ কোটি ও ১২৯.১১ কোটি টাকা রাজস্বের বিপরীতে ৮৫.২৯ কোটি ও ৮৪.২৫ কোটি টাকা মুনাফা হয়।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, ২০২২ সালের ৩০ জুন বিএসসিএল-এর কাছে স্যাটেলাইট সম্পদ হস্তান্তর করা হয়। ফলে ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে মুনাফা গণনায় অবচয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না, কিন্তু ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে তা যুক্ত হওয়ায় মুনাফা প্রভাবিত হয়।
দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের পরিকল্পনা
দ্বিতীয় স্যাটেলাইট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সরকার বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্যাটেলাইট প্রস্তুতকারকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যারা প্রকল্পে সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনটি কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাব এসেছে, যা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে।
প্রকল্পের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সরকার নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে। গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনার পর দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।



