বাংলাদেশি প্রকৌশলী সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম এনএই’র সম্মানজনক তালিকায় নির্বাচিত
বাংলাদেশি প্রকৌশলী সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম এনএই’র তালিকায়

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা ন্যাশনাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং (এনএই) সম্প্রতি এক বিশেষ ঘোষণায় জানিয়েছে, তাদের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ‘দ্য গ্রেইঞ্জার ফাউন্ডেশন ফ্রন্টিয়ার্স অব ইঞ্জিনিয়ারিং ২০২৬ সিম্পোজিয়ামে’ যোগ দিতে বিশ্বের ৭৪ জন সফল ও সম্ভাবনাময় তরুণ প্রকৌশলীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই বিশ্বসেরা তরুণ প্রকৌশলীদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম।

সম্মানজনক স্বীকৃতি

বিশ্বের নানা প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি গবেষণা সংস্থায় কর্মরত তরুণ প্রকৌশলীরা যারা নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও গবেষণায় অসাধারণ অবদান রাখছেন, তাদেরই এই বিশেষ সেমিনারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণ বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যাতে তারা একে অপরের সঙ্গে নতুন বৈজ্ঞানিক আইডিয়া ও প্রযুক্তিগত কৌশল বিনিময় করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে বড় কোনো আবিষ্কারের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।

সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেইঞ্জার কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিউক্লিয়ার, প্লাজমা ও রেডিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এআই লিডার হিসেবে অনন্য এক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের মার্কিন জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মপরিকল্পনা ২০২৫-এর জন্য তাঁকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে মনোনীত করেছিল ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এনএই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

ন্যাশনাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রেসিডেন্ট সু-জে লিউ জানান, ‘মানুষ ও সমাজের অগ্রগতির পেছনে সবসময়ই বড় অবদান রেখেছে প্রকৌশলবিদ্যা। বর্তমান যুগে আমাদের সমাজ যত বেশি জটিল ও একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, প্রকৌশলের ভূমিকা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তাঁর মতে, এনএইর মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির দুনিয়ায় সেরা কাজগুলোকে উৎসাহিত করা। বিভিন্ন বিষয়ের গবেষক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়ে তারা এমন একদল দূরদর্শী প্রকৌশলী তৈরি করতে চান, যারা নিজেদের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা দিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে নেতৃত্ব দেবেন।

সিম্পোজিয়ামের বিবরণ

এই লক্ষ্য নিয়েই চলতি বছর ইউ.এস. ফ্রন্টিয়ার্স অব ইঞ্জিনিয়ারিং সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের (এএমডি) সহযোগিতায় আয়োজিত এই সেমিনারে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিষয়গুলো হলো—বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির নতুন উপাদান তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান, কৃষিব্যবস্থাকে একটি বড় নেটওয়ার্ক হিসেবে বিবেচনা করা এবং শব্দের চেয়েও বহুগুণ দ্রুতগতির প্রযুক্তি হাইপারসনিকস নিয়ে কাজ করা।

কার্যক্রমের ইতিহাস

১৯৯৫ সালে দ্য গ্রেইঞ্জার ফাউন্ডেশন ফ্রন্টিয়ার্স অব ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার তরুণ প্রকৌশলী এতে অংশ নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট সু-জে লিউ আরও জানান, ‘এনএইর এই বার্ষিক সেমিনারটি মূলত ভবিষ্যতের প্রকৌশল নেতাদের গড়ে তোলা ও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেওয়ার একটি বড় প্রচেষ্টা। বিভিন্ন বিষয়ের চমৎকার সব তরুণ প্রকৌশলীকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার মাধ্যমে এখানে একটি দারুণ বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তৈরি হবে। ফলে তাঁরা নতুন নতুন আইডিয়া শেয়ার করে নিজেদের মধ্যে আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার মজবুত ভিত্তি তৈরি করবে।’

গ্রেইঞ্জার ফাউন্ডেশন ফ্রন্টিয়ার্স অব ইঞ্জিনিয়ারিং সেমিনারে যোগ দেওয়ার জন্য এই তরুণ প্রকৌশলীদের সরাসরি বেছে নেওয়া হয়নি; বরং প্রকৌশল জগতের বড় বড় নেতা ও নামীদামি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের নাম প্রস্তাব বা মনোনীত করেছিল। যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা বিভিন্ন বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি গবেষণা সংস্থার হয়ে কাজ করছেন। ১৯৯৫ সালে চমৎকার এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার তরুণ প্রকৌশলী এতে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন প্রকৌশল দুনিয়ায় নিজ নিজ দেশের শীর্ষ বিজ্ঞানী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।