জ্বালানি ছাড়াই শক্তি সঞ্চয়ের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। আকৃতি পরিবর্তনের মাধ্যমে শক্তি ধরে রাখা এবং প্রয়োজনের সময় তা ছাড়তে সক্ষম বিশেষ ধরনের অণু নিয়ে চলছে গবেষণা। এ প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘মলিকুলার সোলার থার্মাল এনার্জি স্টোরেজ’। বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক ধরে এমন অণুর সন্ধান করছেন, যা সূর্যের শক্তি শোষণ করে গঠন পরিবর্তন করবে এবং পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসে সেই শক্তি মুক্ত করবে। এটি অনেকটা ফাঁদে আটকানো স্প্রিংয়ের মতো, যেখানে আগে শক্তি জমা থাকে, পরে প্রয়োজনমতো তা ব্যবহার করা যায়।
প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অনুপ্রেরণা
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারার বিজ্ঞানী গ্রেস হান জানান, মানুষের ত্বকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পড়লে ডিএনএ অণু সাময়িকভাবে বিকৃত হয়। পরে তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াই নতুন শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তির অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তিনি বলেন, ত্বকের ডিএনএ অণুগুলো ওজনে খুবই হালকা হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শক্তি ধারণ করতে পারে। গবেষকরা সেই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম অণু তৈরির চেষ্টা করছেন।
গবেষণার ফলাফল
এক গবেষণাপত্রে গ্রেস হান ও তাঁর দল দেখিয়েছেন, তাদের উদ্ভাবিত অণু-ভিত্তিক সিস্টেম ছোট একটি পাত্রে রাখা পানিকে দ্রুত উত্তপ্ত করতে সক্ষম। হান বলেন, পরীক্ষায় দ্রবণটি দ্রুত ফুটতে দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস এঞ্জেলসের অধ্যাপক কেন্ডাল হাউক ও তার দল কম্পিউটার বিশ্লেষণের মাধ্যমে অণুর কার্যকারিতা আগেই অনুমান করেছিলেন। পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার গবেষক ক্যাসপার মথ-পলসেন জানান, এ পদ্ধতিতে প্রতি কেজিতে ১.৬৫ মেগাজুল পর্যন্ত শক্তি ঘনত্ব পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক লিথিয়াম ব্যাটারির চেয়েও বেশি।
সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
তবে প্রযুক্তিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী জন গ্রিফিন বলেন, অণুকে সক্রিয় করতে খুব শক্তিশালী অতিবেগুনি রশ্মির প্রয়োজন হয়, যা সূর্যালোকে সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়া শক্তি মুক্ত করতে এখনো ক্ষয়কারী রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব ডুইসবার্গ-এসেনের বৈজ্ঞানিক পরিচালক হ্যারি হোস্টারের বলেন, প্রযুক্তিটি ব্যবহারিক পর্যায়ে নিতে কিছু জটিলতা আছে। তবে গবেষকরা এর কঠিন বা সলিড-স্টেট সংস্করণ তৈরিতে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে এটি জানালার কাচের আবরণ হিসেবে ব্যবহার করে শীতে ঘর গরম রাখা বা কুয়াশা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। সূত্র: বিবিসি



