অ্যাপলের নতুন সিইও জন টারনাস: আইফোনের ভবিষ্যৎ কী হবে?
অ্যাপলের নতুন সিইও জন টারনাস: আইফোনের ভবিষ্যৎ

প্রযুক্তি জগতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। টিম কুকের দীর্ঘ নেতৃত্বের পর অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টারনাস। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তিনি এই পদে বসবেন, আর কুক চলে যাবেন এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যানের ভূমিকায়। এই পরিবর্তন শুধু নেতৃত্বেই নয়, ভবিষ্যতের আইফোনের দিকনির্দেশনাতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন নেতৃত্ব, নতুন কৌশল?

যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক মার্ক গুরম্যানের প্রতিবেদনে আগেই ইঙ্গিত ছিল যে অ্যাপল একজন ‘ইনসাইডার’কেই সিইও করবে। শুরুতে জেফ উইলিয়ামসের নাম শোনা গেলেও বয়স বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের জন্য টার্নাসকেই বেছে নেয় কোম্পানি। টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শীর্ষে উঠে আসেন। স্টিভ জবসের সময়েও তিনি কোম্পানিতে ছিলেন, যদিও সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয়নি।

সস্তা কিন্তু শক্তিশালী ডিভাইস?

টার্নাসের বড় সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ৫৯৯ ডলার দামের ম্যাকবুক নিও। এটি প্রমাণ করে তিনি প্রিমিয়াম মূল্য কমিয়ে আরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাতে আগ্রহী। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তার নেতৃত্বে অ্যাপল মাঝারি দামের স্মার্টফোন বাজারে আরও জোর দেবে। বর্তমানে এই বাজারে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি-এ সিরিজ এগিয়ে আছে। ভবিষ্যতে ৬০০ ডলারের মধ্যে আরও আকর্ষণীয় আইফোন দেখা যেতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইফোনের পারফরম্যান্স কি পুরোপুরি ব্যবহার হবে?

টার্নাস আগে অভিযোগ করেছিলেন যে আইপ্যাডের হার্ডওয়্যার পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে না। তিনি অ্যাপলের সিনিয়র প্রকৌশলী ক্রেইগ ফেডেরিঘিকে আরও শক্তিশালী সফটওয়্যার তৈরি করতে উৎসাহ দেন। একইভাবে বর্তমান আইফোনেও শক্তিশালী চিপ থাকা সত্ত্বেও তার পুরো ক্ষমতা ব্যবহার হয় না। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ফিচার আসতে পারে, যা চিপগুলোর প্রকৃত ক্ষমতা কাজে লাগাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অ্যাক্সেসরিজ ও ইকোসিস্টেমে বড় পরিবর্তন?

টার্নাস অ্যাপলের বিভিন্ন অ্যাক্সেসরি যেমন আপেল পেন্সিল ও ম্যাজিক কীবোর্ড উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে আইফোনের ক্ষেত্রেও নতুন ধরনের অ্যাক্সেসরি ও এক্সপ্যান্ডেড ইকোসিস্টেম দেখা যেতে পারে।

এআই নিয়ে কী করবেন টার্নাস?

বর্তমানে এআই প্রতিযোগিতায় অ্যাপল কিছুটা পিছিয়ে আছে। ওপেন এআই এবং গুগল এগিয়ে থাকলেও অ্যাপল এখনও তাদের এআই কৌশল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তবে টার্নাসের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে। তিনি সরাসরি সফটওয়্যার এআই-এর বদলে এআই-ভিত্তিক হার্ডওয়্যার ডিভাইস যেমন স্মার্ট গ্লাস, স্মার্ট হোম গ্যাজেট উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন।

সবকিছু কি নিখুঁত হবে?

টার্নাসের অতীত পুরোপুরি নির্ভুল নয়। ম্যাকবুকের টাচ বার বা বাটারফ্লাই কীবোর্ডের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তেও তার ভূমিকা ছিল। তবে সহকর্মীরা তাকে সহযোগিতাপূর্ণ এবং দলগতভাবে কাজ করতে দক্ষ একজন নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সামনে কী আসছে?

সব মিলিয়ে টার্নাসের নেতৃত্বে অ্যাপল আরও হার্ডওয়্যার-কেন্দ্রিক, বাস্তবসম্মত এবং হয়তো কিছুটা সাশ্রয়ী কৌশল গ্রহণ করতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভবিষ্যতের আইফোনে, যেখানে নতুনত্ব, পারফরম্যান্স এবং মূল্য সবকিছুর ভারসাম্য আনার চেষ্টা দেখা যেতে পারে। সূত্র: পিসি ম্যাগ।