যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ রাজ্যের একটি নির্জন উপত্যকায় বিশাল একটি এআই ডেটা ও জ্বালানি ক্যাম্পাস তৈরির পরিকল্পনা চলছে, যার নাম ‘স্ট্র্যাটোস প্রজেক্ট’। এই প্রকল্পটি হ্যান্সেল ভ্যালিতে প্রায় ৪০ হাজার একর জমির উপর নির্মিত হবে, যা অনেক বড় শহরের চেয়েও বিশাল। কেউ কেউ বলছেন, এটি প্রায় ২ হাজার ওয়ালমার্ট দোকানের সমান।
বিদ্যুৎ ও তাপের প্রভাব
এই প্রকল্পে এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং জাতীয় নিরাপত্তার কাজে ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, যা উটাহ রাজ্যের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা (৪-৫ গিগাওয়াট) থেকেও বেশি। উটাহ স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক রবার্ট ডেভিস বলেছেন, ‘এই কেন্দ্র প্রতিদিন পরিবেশে ২৩টি পারমাণবিক বোমার সমান তাপশক্তি ছেড়ে দেবে।’ তিনি আরও জানান, হ্যান্সেল ভ্যালিতে দিনের বেলা তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং রাতে ২৮ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে, কারণ উপত্যকাটি একটি প্রাকৃতিক ‘বাটির’ মতো তাপ আটকে রাখে।
পানি সংকট
পানি নিয়েও বড় চিন্তা রয়েছে। প্রকল্পটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রতি বছর কোটি কোটি গ্যালন পানি লাগতে পারে। প্রকল্প পরিচালকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা হ্যান্সেল ভ্যালি ও আশপাশ থেকে প্রায় ১৩ হাজার একর-ফুট পানি নেবে, যা ২০ হাজার পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।
স্থানীয় প্রতিবাদ
স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক গণ-শুনানিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়ে ‘মুনাফার চেয়ে মানুষ বড়’ এবং ‘ডেটা দিয়ে পানির পিপাসা মেটে না’ স্লোগান দেন। একটি জরিপে দেখা গেছে, উটাহের ৫৩ শতাংশ ভোটার এই প্রকল্পের বিপক্ষে, আর মাত্র ৩০ শতাংশ সমর্থন করছেন।
সমর্থকদের যুক্তি
অন্যদিকে, প্রকল্পের সমর্থকরা বলছেন, এটি একটি বৃহত্তর ‘এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতার’ অংশ। বিনিয়োগকারী কেভিন ও'লেরি বলেছেন, এই ধরনের বিশাল দেশীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। উটাহের গভর্নর স্পেন্সার কক্স বলেছেন, প্রকল্পটি ধাপে ধাপে নির্মিত হবে এবং প্রতিটি ধাপ আলাদাভাবে অনুমোদন করা হবে।



