টাঙ্গাইলের পাঁচটি উপজেলায় একটি পাখির বিদ্যুৎ লাইনে ধাক্কা লাগার ঘটনায় ঘাটাইল শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েক লাখ গ্রাহক সারাদিন চরম দুর্ভোগে পড়েন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মধুপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর এবং ভূঞাপুর ও ঘাটাইল উপজেলার আংশিক এলাকায় দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
ঘটনার বিবরণ
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মধুপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুস সালাম জানান, সকালে একটি বাচ্চা পাখি উড়ে এসে বিদ্যুৎ লাইনে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দ হয় এবং ঘাটাইলের পাকুটিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের একাধিক ইন্সুলেটর ক্র্যাক করে। পাশাপাশি শর্টসার্কিটের কারণে গ্রিডের বাসবার আইসোলেটরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
মেরামত ও বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার
তিনি আরও জানান, গ্রিডের নিয়ম অনুযায়ী এনএলডিসি থেকে লিখিত অনুমতির মাধ্যমে শাটডাউন নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় লাইন বন্ধ হওয়ার পর ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ শেষে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে শাটডাউন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে বিকাল ৩টার পর ৩৩ কেভি লাইন চালু করা হয় এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।
গ্রাহকদের ভোগান্তি
তবে বিদ্যুৎ চালু হওয়ার পরও ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরক্তি দেখা দেয়। মধুপুর পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার ব্যবসায়ী এরশাদ হোসেন রাশেদ বলেন, সারা দিন অপেক্ষার পর বিকালে বিদ্যুৎ এলেও ঘন ঘন চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। গোপালপুর উপজেলার জোতগোপাল গ্রামের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ খুব কষ্ট পেয়েছে। দিনটি ছিল অত্যন্ত দুর্ভোগের। ঘাটাইল উপজেলার দেওলাবাড়ীর রফিক, এনায়েত হোসেন এবং শাহপুরের আফজাল হোসেনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।



