আজহারীর ডিপফেক ভিডিও প্রতারণা: গ্রেফতার ১০ যুবক কারাগারে
আজহারীর ডিপফেক ভিডিও প্রতারণায় ১০ যুবক কারাগারে

ইসলামি বক্তা শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ১০ যুবককে পল্টন থানার সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ ও জামিন শুনানি

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আসামিদের জামিন শুনানি আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে। তাদের পক্ষে আইনজীবী শরীফ আহমেদ এ শুনানি করবেন।”

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

কারাগারে যাওয়া ১০ যুবক হলেন— মো. সারাফাত হোসেন (২৪), মো. শাফায়েত হোসেন শুভ (২১), শাহাদাত তৌফিক (২১), মো. ইমাম হোসেন বিজয় (২১), মো. রফিকুল হাসান (২১), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (২১), অমিদ হাসান (২১), মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম (২১) এবং মো. ইমরান (২৪)। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে চক্রটি পরিচালনা করতেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও গ্রেফতার

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর ডিএমপির পল্টন মডেল থানা ও সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতারণার কৌশল

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল। তারা জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) এবং ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির সাহায্যে তার চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করতো। পরবর্তীকালে সেই ভুয়া ভিডিওতে ড. আজহারীর কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামক একটি যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালানো হতো।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ আজহারীর কথায় বিশ্বাস করে এসব পণ্যকে সত্য মনে করে অর্ডার দিতেন। আসামিরা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ প্রায় ২৪টিরও বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব ভিডিও বুস্ট করে প্রচারণা চালাতো। এরপর ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতো তারা।

তদন্তের তথ্য

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ড. আজহারী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে এই চক্র তার নাম ও পরিচিতি ব্যবহার করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধর্মীয় আবেগ ও মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।