জামায়াত আমিরের এক্স আইডি হ্যাক মামলায় তদন্ত থমকে: ডিভাইস না পাওয়ায় অগ্রগতি ব্যাহত
জামায়াত আমিরের এক্স আইডি হ্যাক মামলা থমকে: তদন্তে বাধা

জামায়াত আমিরের এক্স আইডি হ্যাক মামলায় তদন্ত থমকে: ডিভাইস না পাওয়ায় অগ্রগতি ব্যাহত

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স আইডি হ্যাক হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত থমকে আছে। গত ৩১ জানুয়ারি এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটলেও আড়াই মাস পার হওয়ার পরও তদন্তে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তদন্তকারী সংস্থা ডিভাইস না পাওয়ায় ফরেনসিক পরীক্ষা করতে পারছে না, যা মামলার অগ্রগতিতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদন্তে বাধা: ডিভাইস সংগ্রহে সমস্যা

এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর তরফে প্রথমে হাতিরঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা এক্স কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এক্স কর্তৃপক্ষ তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের তথ্য নিতে হলে দুদেশের আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

সূত্র থেকে জানা গেছে, ডিভাইসসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষা করা জরুরি ছিল। তাই তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজাউল আমীন মামলার বাদী সিরাজুল ইসলামকে ডিভাইসসহ অন্য আলামত জব্দের ব্যাপারে চারবার চিঠি দিয়েছেন। তবে বাদীপক্ষ ডিভাইস জমা দেননি বলে জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য: ডিভাইস না পেলে তদন্ত কঠিন

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, "মামলার বাদীর কাছে চিঠি দিয়ে ডিভাইস চেয়েছি। কিন্তু তারা ডিভাইস জমা দেননি। পরে আদালতের মাধ্যমেও ডিভাইস চাওয়া হলেও পাওয়া যায়নি। এতে তদন্তের অগ্রগতি থমকে আছে।"

অভিযোগ প্রমাণের জন্য ওই ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করা জরুরি– এমন প্রশ্নে শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, "ডিভাইসই তো প্রধান জিনিস। ওটা না পেলে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করা কঠিন।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ও জামিন: রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের কর্মকর্তার ভূমিকা

জানা গেছে, জিডির তদন্ত শুরুর পরই অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর এজিবি কলোনির বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে। তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। যদিও জিডির তদন্ত কাজ শুরু করেছিল ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিট, ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবির অন্য একটি ইউনিট। পরে তাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে আনা হলে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি জানতে পারেন।

প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর, ৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় মিন্টো রোডে সংবাদ সম্মেলনে ছরওয়ারে আলমকে মামলায় গ্রেফতারের কথা জানায় ডিবি। ওই দিন রাতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়ে ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও তদন্তের সীমাবদ্ধতা

জামায়াত আমিরের তরফে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, "রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন কম্পিউটার ডিজিটাল ডিভাইসে বেআইনি প্রবেশ করে ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট করে, যা নারীর প্রতি বিদ্বেষ, অশ্লীলতা, জাতিগত সহিংসতা, ঘৃণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছড়ায়।"

তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের ওই মেইলের কারণে হ্যাক হয়েছে কিনা, নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জামায়াতের কাছে মেইল গেছে কিনা– এ বিষয়ে এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত স্ক্রিনশর্ট ছাড়া তদন্তে অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে গ্রেফতারের পর ছরওয়ারে আলমকে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির করলে ওই দিনই তিনি জামিন পান। এই জামিনের পর মামলার তদন্ত আরও জটিল হয়ে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সাইবার অপরাধ তদন্তে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের অভাব এই মামলার অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিভাইস না পাওয়া এবং এক্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে বাধার কারণে এই মামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।