সাইবার প্রতারকদের নতুন ফাঁদ: এআই ক্যামেরার নামে জাল জরিমানা এসএমএস
এআই ক্যামেরার নামে জাল জরিমানা এসএমএসের ফাঁদ

ঢাকায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগে এআই চালিত স্মার্ট ক্যামেরা ব্যবহার বাড়ছে। ম্যানুয়াল থামানোর পরিবর্তে প্রধান সড়কে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি চালু হয়েছে। জরিমানা ও পেনাল্টি বাড়ায় এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নতুন করে এসএমএস প্রতারণা শুরু করেছে সাইবার অপরাধীরা।

কীভাবে হচ্ছে প্রতারণা?

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংগঠিত জালিয়াত দল এআই ট্রাফিক ক্যামেরার নামে জাল টেক্সট মেসেজ পাঠাচ্ছে। মেসেজে চালকদের মিথ্যা অভিযোগ এনে দ্রুত পেমেন্টের দাবি করা হয়। মেসেজে সরকারি নোটিশের মতো ভাষা ও জাল পেমেন্ট লিংক থাকে। অনেকে যাচাই না করে লিংকে ক্লিক করে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হারাচ্ছেন।

জাল এসএমএসের কৌশল

প্রতারকরা জরিমানা ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিগুণ হওয়ার হুমকি দেয়। লাইসেন্স সাসপেনশন বা আইনি ব্যবস্থার ভয় দেখিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা

মোটরসাইকেল আরোহী আসাদুল ইসলাম জানান, তিনি একটি এসএমএস পান যাতে বলা হয় তার বাইক প্রগতি সরণিতে গতিসীমা অতিক্রম করেছে। পেমেন্ট লিংকে ক্লিক করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিতে গিয়ে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল রাকিব ভিডিওতে বলেন, তিনি মোটরসাইকেল না চালিয়েও একই ধরনের মেসেজ পান। মেসেজে আগে পেমেন্ট করলে ছাড় দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়, যা প্রথমে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও পরে তিনি প্রতারণা বুঝতে পারেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারকদের মূল লক্ষ্য ওটিপি ও পিন। জাল সাইটে এগুলো দিলে সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ব্যাংকিং ও কার্ড অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যায়।

সর্তকতা ও করণীয়

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকৃত ট্রাফিক নোটিশে কখনো পিন, ওটিপি বা কার্ডের বিবরণ চাওয়া হয় না। সন্দেহজনক বানান, অস্বাভাবিক লিংক ও চাপ সৃষ্টি করাই প্রতারণার লক্ষণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট চালকদের অনুরোধ করেছে, কোনো জরিমানা পরিশোধের আগে অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে যাচাই করতে। অজানা লিংকে ক্লিক না করতে বলা হয়েছে।

ওটিপি, পিন ও সিভিভি নম্বর কখনো শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়ে ভুক্তভোগীদের পুলিশ বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

ডিএমপি সম্প্রতি জনগণকে এই প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করে জানিয়েছে, অফিসিয়াল ট্রাফিক জরিমানা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় হয় এবং এসএমএস শুধুমাত্র নির্দিষ্ট নম্বর থেকে আসে। পেমেন্ট অনুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই গ্রহণ করা হয়।