যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় বড় ধরনের সাইবার হামলার পর অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্নের মুখে পড়েছে। পরীক্ষার মৌসুমে এ ঘটনা ঘটায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ই চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে অচলাবস্থা
বিশ্বজুড়ে হাজারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেসব অনলাইন লার্নিং সিস্টেম ব্যবহার করে, সেগুলো সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল, কলাম্বিয়া, প্রিন্সটনসহ শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এর প্রভাব পড়ে। অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও একই সমস্যার কথা জানায়।
সেবা আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার
সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্ট্রাকচার ইনক জানায়, তারা ঘটনার তদন্ত করছে এবং অধিকাংশ সেবা আবার চালু করা হয়েছে। তবে কিছু পরীক্ষামূলক ও বেটা সার্ভিস তখনো রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় ছিল।
ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলায় শিক্ষার্থীদের নাম, ই–মেইল, স্টুডেন্ট আইডি ও প্ল্যাটফর্মে বিনিময় করা বার্তা ফাঁস হতে পারে। তবে পাসওয়ার্ড, আর্থিক তথ্য বা সরকারি পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফিশিং হামলার সতর্কতা জারি
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছে সম্ভাব্য ফিশিং ই-মেইল নিয়ে। ভুয়া আইটি স্টাফ বা প্রশাসনের পরিচয়ে প্রতারণামূলক বার্তা আসতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
হ্যাকার গোষ্ঠীর দাবি ও হুমকি
সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ‘ShinyHunters’ এ হামলার দায় স্বীকার করে ডার্ক ওয়েবে বড় পরিসরে তথ্য ফাঁসের দাবি করেছে। তারা প্রায় ৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক ডেটা তাদের কাছে রয়েছে বলে হুমকি দিয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকায় এগুলো অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে এ খাতে নিরাপত্তাঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।



