রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে 'ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট' অ্যাপ চালু, দ্বিতীয়বার তেল নিতে এসে ধরা পড়ছেন অনেকে
রাজশাহীতে ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ চালু, তেল নিতে এসে ধরা পড়ছেন অনেকে

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে 'ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট' অ্যাপ চালু

গ্রাহক হয়রানি কমানো এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন 'ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট' নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার তেল নিতে এসে অনেকে ধরা পড়ছেন, যা স্থানীয় পাম্পগুলিতে উত্তেজনার সৃষ্টি করছে।

অ্যাপ চালু ও ধরা পড়ার ঘটনা

রাজশাহীর বেশ কিছু পেট্রোল পাম্পে এই অ্যাপ ইতিমধ্যে চালু হয়েছে, এবং আরও কয়েকটি পাম্পে শীঘ্রই চালু হবে বলে জানা গেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) নগরীর সাগরপাড়া এলাকার 'আফরিন ফিলিং স্টেশনে' তেল দেওয়া হয়, এর আগের দিন 'গুলগফুর পেট্রোলিয়াম পাম্পে' অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

এই পাম্প থেকে তেল নিয়ে আফরিনে গিয়ে অনেকে ধরা খেয়েছেন। সোমবার দুপুরে এক মোটরসাইকেল চালক তেল নিতে এসে পাম্প কর্মীরা তার গাড়ির নম্বর অ্যাপে দিতেই দেখতে পান, তিনি আগের দিন সন্ধ্যায় তেল নিয়েছেন। তাকে লাইন থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর একইভাবে ধরা পড়েন আরেক চালক, যিনি সকালে তেল নেওয়ার পর একই দিন দ্বিতীয়বার নিতে এসেছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রাহক প্রতিক্রিয়া ও শাস্তির দাবি

পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সোমবার সকাল থেকে এভাবে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন ধরা পড়েছেন, এবং তাদের কাউকেই তেল দেওয়া হয়নি। লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়, এবং অনেকেই নিয়ম ভঙ্গকারীদের দৃশ্যমান শাস্তির দাবি তুলেছেন।

রাজু আহমেদ নামের এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, 'ধরা পড়ার পর শুধু ফেরত পাঠালে হবে না, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া উচিত। তাহলে কেউ দ্বিতীয়বার আসার সাহস করবে না।' আরেক চালক রাফি ইসলাম যোগ করেন, 'যারা নিয়ম ভাঙছে, তাদের কী শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটি প্রকাশ্যে জানানো দরকার। এতে সিন্ডিকেট কমবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অ্যাপের কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা

সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পের কর্মীরা ফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে গাড়ির তথ্য যাচাই করছেন। অ্যাপে নম্বর প্লেটের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিলেই দেখা যাচ্ছে ওই যানবাহন সর্বশেষ কবে, কখন ও কতটুকু জ্বালানি নিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নতুন এই ব্যবস্থায় রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

  • একজন মোটরসাইকেলচালক পাঁচ দিনে একবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি নিতে পারবেন।
  • প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসচালক সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার জ্বালানি নিতে পারবেন।

রাজশাহীর এই ফিলিং স্টেশনের পয়েন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সানি বলেন, 'অ্যাপটি ব্যবহার সহজ ও কার্যকর। একবার তেল নেওয়ার পর পাঁচ দিনের জন্য গাড়িটি ব্লক হয়ে যায়। ফলে একই ব্যক্তি বারবার এসে তেল নিতে পারছেন না। এতে ভোগান্তি কমবে এবং পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।'

তিনি আরও জানান, স্ক্যানার সুবিধা এখনও পুরোপুরি চালু না হওয়ায় নম্বর হাতে লিখে অ্যাপে ইনপুট দিতে হচ্ছে। স্ক্যানার চালু হলে কাজ আরও সহজ হবে।

পেশাজীবীদের উদ্বেগ ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য

কিছু পেশাজীবী এই নিয়মের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন। একটি টেলিকম কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত জাহিদ বলেন, 'প্রতিদিন তাকে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। পাঁচ দিনে একবার তেল নেওয়ার নিয়ম তার মতো কর্মজীবীদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। যাদের চলাচল বেশি, তাদের জন্য আলাদা বিবেচনা থাকা দরকার।'

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, 'তেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট ও অরাজকতা তৈরি হয়েছিল। নতুন অ্যাপ চালুর পর তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক অনিয়ম শনাক্ত করা গেছে।' তিনি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে আবার তেল নিতে এলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপাতত রাজশাহী জেলায় এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে অ্যাপটি আরও উন্নত করার কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।