গ্যাস সংকট কাটিয়ে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা পুনরায় চালু
দীর্ঘ প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানাটি গতকাল সোমবার দুপুর থেকে পুনরায় চালু হয়েছে। গত ৪ মার্চ দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় গ্যাস সংযোগ পুনরায় পাওয়ার পর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কারখানা পুনরায় চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পুনরায় গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর সোমবার দুপুর ১২টা থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই পুনরায় চালু হওয়া কারখানাটির কার্যক্রম দেশের কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কারখানার বিশাল অবকাঠামো ও উৎপাদন সক্ষমতা
প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই কারখানাটি স্থাপনের পর ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ কারখানাটির উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটি থেকে বার্ষিক ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব ও পুনরুদ্ধার
গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটি বন্ধ থাকায় দেশের সার সরবরাহে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছিল। তবে, গ্যাস সংযোগ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এই কারখানাটি স্থাপনে ব্যয় করা বিশাল অঙ্কের টাকা এবং এর উৎপাদন সক্ষমতা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা
কারখানার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, তারা আগামী দিনগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এর মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে আরও বেশি ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই সার কারখানাটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং আঞ্চলিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।



