বারিধারায় গির্জায় লুট: গ্রেপ্তার ৩, উদ্ধার ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা
বারিধারায় গির্জায় লুট: গ্রেপ্তার ৩, উদ্ধার টাকা-পাসপোর্ট

রাজধানীর বারিধারায় ডি মাজেন্ড গির্জায় লুটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং তাঁদের কাছ থেকে লুটের টাকা ও অন্যান্য জিনিস উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার ভাটারা থানায় সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের হাজির করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে বারিধারায় অবস্থিত ডি মাজেন্ড গির্জায় দুর্বৃত্তরা ঢুকে গির্জার পরিচালকের হাত-পা ও মুখ বেঁধে আড়াই লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু (৩৬), মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান (৩৭) ও আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির (৩৮)। তাঁদের কাছ থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ১টি পাসপোর্ট, ১টি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গ্রিল কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক ও অনলাইন জুয়ায় চরমভাবে আসক্ত। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তাঁরা এই দস্যুতার পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার সময়

ঘটনাটি গত ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘটে। দুজন দুষ্কৃতকারী মুখে মাস্ক পরে গির্জার দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে প্রথমে কর্মচারীদের কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে তারা ফাদার সুবাস পুলক গোমেজের অফিস রুমের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ফাদারের হাত-পা ও মুখ বেঁধে আলমারি থেকে টাকা, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র লুট করে। পরে আরেকজনের সহযোগিতায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে পালিয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও অভিযান

ঘটনার পর ভাটারা থানায় মামলা হয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গির্জার পাশে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা সন্দেহজনক দেখতে পায়। ঢাকার বিভিন্ন গ্যারেজের কয়েক হাজার রিকশা ও চালকের তথ্য যাচাই করে রিকশাচালক আক্তার হোসেনকে শনাক্ত করে। প্রথমে তাকে মুগদা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ও রিকশাটি উদ্ধার করা হয়। আক্তারের তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করে ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ খিলক্ষেতের আমতলা থেকে পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আরও ১ লাখ টাকা, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

আসক্তি ও পূর্ব অপরাধ

পুলিশ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনই মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা, মিজানের বিরুদ্ধে কুমিল্লার লালমাই থানায় দস্যুতার মামলা এবং আক্তারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় মাদকের মামলা রয়েছে। এই চক্রে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি ইস্টার সানডে থাকায় তাঁরা ভেবেছিলেন গির্জায় অনেক টাকাপয়সা আছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা মুগদা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে আসেন। রিকশাচালক বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন, বাকি দুজন ভেতরে ঢুকে ফাদারকে বেঁধে টাকাপয়সা ও পাসপোর্ট নিয়ে যান।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গির্জা লুটের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়, যিনি তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।