সমুদ্রের তলদেশে তেলের শহর: বিশ্বের সবচেয়ে বড় অয়েল রিগ
সমুদ্রের তলদেশে তেলের শহর: বিশ্বের সবচেয়ে বড় অয়েল রিগ

অনেকের ধারণা, খনিজ তেল শুধু মরুভূমির নিচে থাকা সম্পদ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেলের আধিক্য দেখে এমনটা মনে হওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্বের মোট তেলের এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসে সমুদ্রের তলদেশ থেকে।

তবে সমুদ্রের তলদেশ থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস তুলে আনা মোটেও সহজ কাজ নয়। এই কঠিন কাজ করার জন্য সমুদ্রের মাঝখানে বিশাল সব কাঠামো তৈরি করা হয়। সেগুলোকে বলা হয় ‘অফশোর প্ল্যাটফর্ম’ বা ‘অয়েল রিগ’।

এগুলো সমুদ্রের মাঝখানে একটি আস্ত শহর। এখানে শুধু তেল তোলার বিশাল সব ড্রিলিং মেশিনই থাকে এমন নয়; বরং উত্তোলিত তেল প্রসেসিং ইউনিট ও তা মজুত রাখার বিশাল ট্যাংকও থাকে। এমনকি সেখানে দিনরাত কাজ করা শত শত কর্মীর জন্য থাকা খাওয়া ও বিনোদনের সব আধুনিক ব্যবস্থাও রাখা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমুদ্রের তলদেশ থেকে মাইলের পর মাইল গভীরে ড্রিল করে এই রিগগুলো ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। তাহলে চলো জেনে নেওয়া যাক, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী তেল উত্তোলনকেন্দ্রগুলো সম্পর্কে।

১. হাইবারনিয়া তেলক্ষেত্র (কানাডা)

আটলান্টিক মহাসাগরের হিমশীতল পরিবেশে অবস্থিত এই প্ল্যাটফর্ম এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে ভারী কাঠামোগুলোর একটি। এর ওজন প্রায় ১১ লাখ টন। অবাক করা বিষয় হলো, এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে ১০ লাখ টন ওজনের বিশাল কোনো হিমশৈল বা আইসবার্গের ধাক্কাতেও এর কোনো ক্ষতি হবে না।

২. বারকুত তেলক্ষেত্র (রাশিয়া)

রাশিয়ার উপকূলে অবস্থিত এই প্ল্যাটফর্মকে বিশ্বের বৃহত্তম ড্রিলিং প্ল্যাটফর্ম বলা হয়। এটি মাইনাস ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ১৮ মিটার উঁচু ঢেউ অনায়াসেই সহ্য করতে পারে। ৫২ হাজার ঘনমিটার কংক্রিট আর ২৭ হাজার টন ইস্পাত দিয়ে তৈরি এই স্থাপনা সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরেও কূপ খনন করতে সক্ষম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. ট্রল আ প্ল্যাটফর্ম (নরওয়ে)

এটি মানুষের তৈরি পৃথিবীর অন্যতম উঁচু কাঠামো। বিশেষত্ব এর মূল কাঠামোর প্রায় ১ হাজার ২১০ ফুট অংশ সমুদ্রের পানির নিচে থাকে। উত্তর সাগরের শক্তিশালী ঢেউয়ের মধ্যেও এটি অটল থাকে এর বিশেষ কংক্রিট ও স্টিলের তৈরি শক্তিশালী পিলারের কারণে।

৪. পারডিডো (মেক্সিকো উপসাগর)

পারডিডো হলো বিশ্বের গভীরতম ভাসমান প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। এটি প্রায় ৮ হাজার ফুট গভীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় কাজ করে। সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার মিটার গভীরতা থেকে তেল তুলে আনার এই প্রযুক্তি প্রকৌশলীদের জন্য এক বিশাল বড় সাফল্য।

৫. পেট্রোনিয়াস প্ল্যাটফর্ম (মেক্সিকো উপসাগর)

সমুদ্রের তলদেশ থেকে এটি প্রায় ২ হাজার ১ ফুট উঁচু। এর মজার দিক হলো, এটি পানির স্রোত বা ঝড়ের সময় কিছুটা দুলতে পারে। এই নমনীয় নকশার কারণেই এটি প্রচণ্ড ঢেউয়ের মধ্যেও ভেঙে না পড়ে টিকে থাকে।

৬. অলিম্পাস (মেক্সিকো উপসাগর)

এই প্ল্যাটফর্মকে বলা হয় তেলের খনি। এটি প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে পারে। বিশাল এই স্থাপনায় প্রায় ২০০ জন কর্মীর থাকার সুব্যবস্থা আছে ও এখান থেকে ড্রিলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

৭. স্টোনস এফপিএসও (নিউ অরলিন্স)

এটি বিশ্বের গভীরতম অফশোর প্রকল্প। এটি আসলে একটি বিশাল ভাসমান ব্যবস্থার মতো, যা ৯ হাজার ৫০০ ফুট গভীর পানিতে কাজ করে। এটি সরাসরি সমুদ্রের মাঝখানেই তেল ও গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে জমা রাখতে পারে এবং পরে তা তীরে পাঠিয়ে দেয়।

সূত্র: হাউ স্টাফ ওয়ার্কস