মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, সূচক স্থবির কিন্তু লেনদেন বেড়েছে ২২%
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, লেনদেন বেড়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় পুঁজিবাজারে টানাপোড়েন

মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও তা টেকসই হবে কিনা, সে ব্যাপারে বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত রয়েছেন। গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের সূচক প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারের জটিল অবস্থাকে নির্দেশ করছে।

সূচকের স্থবিরতা ও বাজার মূলধনের পতন

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় মাত্র ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে আগের সপ্তাহ শেষে এটি ছিল ২ হাজার ২ পয়েন্ট। অন্যদিকে, শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

সূচকে স্থবিরতা দেখা গেলেও গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের গড় লেনদেন ২২ শতাংশ বেড়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এ সময়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎসহ বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে নিম্নমুখিতা লক্ষ্য করা গেছে। এর ফলে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকায়, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শেয়ার লেনদেনের গতিবিধি ও খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২১৩টির, কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির। লেনদেন হয়নি ২২টির। সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে প্রকৌশল খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭.২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। ১১.৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০.৩ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৯.১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল, আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৯ শতাংশ।

লেনদেনের গতি বৃদ্ধি ও শীর্ষ প্রতিষ্ঠান

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের গড় লেনদেন ৬৬৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার তুলনায় ২২.২০ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৪৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪.৪৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে একমি পেস্টিসাইড।

লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছেন লাভেলো আইসক্রিম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, কেডিএস এক্সসরিজ, গোল্ডেন সন, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।

বাজার বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারের অবস্থান ইতিবাচক ছিল, বিশেষ করে ডিসেম্বর ক্লোজিং শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং ভালো আয়ের প্রত্যাশার কারণে শেয়ার দর বেড়েছিল। তবে এই ইতিবাচক প্রবণতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি না হওয়ায় বাজারে পুনরায় ব্যাপক বিক্রয় চাপ শুরু হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নতির আশায় মাঝেমধ্যে কম দামে শেয়ার কেনার প্রবণতা দেখা গেলেও পুনরুদ্ধারের এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বড় মূলধনি শেয়ারের ক্ষেত্রে ক্রমাগত সতর্ক বিক্রয় চাপের কারণে এবং সদ্যসমাপ্ত প্রান্তিকের করপোরেট আয়ের ঘোষণার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে থাকায় বাজার শেষ পর্যন্ত প্রায় স্থিতিশীল ছিল।

এ অবস্থায়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমানো এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক নীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা আগামী দিনগুলোর উন্নয়নের দিকে নজর রাখছেন, আশা করছেন বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে।