গাজার আদলে লেবাননে 'হলুদ রেখা' নির্ধারণ করছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় প্রয়োগ করা কৌশলের আদলে এবার লেবাননেও 'হলুদ রেখা' নির্ধারণ করছে। পূর্বে ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে উপত্যকায় নির্দিষ্ট সীমারেখা বরাবর সেনা সদস্যদের সরিয়ে নিয়েছিল ইসরায়েল, যাকে 'ইয়েলো লাইন' বা 'হলুদ রেখা' বলা হয়। পরে ইসরায়েলি বাহিনী ঘোষণা করে যে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপগুলোয়ও ওই সীমারেখা থেকে তারা আর পিছিয়ে যাবে না, এবং এটি গাজা ও ইসরায়েলের 'নতুন সীমান্ত' হিসেবে বিবেচিত হবে।
লেবাননে একই কৌশলের প্রয়োগ
ঠিক একইভাবে পরিকল্পনা করে লেবাননে 'হলুদ রেখা' দিচ্ছে আইডিএফ সেনারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন পদক্ষেপের ফলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ফিরে যেতে দেওয়া হবে না, এমনটাই জানিয়েছেন আইডিএফ-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের মতে, গাজায় আগে ব্যবহৃত একই কৌশল লেবাননেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।
'ইয়েলো লাইন' বলতে এমন একটি সীমারেখা বোঝানো হয়, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা নির্ধারণ করে এবং সাধারণ মানুষের জন্য তা অপ্রবেশযোগ্য থাকে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক ব্রিফিংয়ে আইডিএফ জানায়, লেবাননের বিভিন্ন টার্গেট এলাকায় এই সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের সামরিক কার্যক্রম এই রেখা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর প্রভাব
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৫৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের নিজ এলাকায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চলাকালেও ওইসব এলাকায় 'সন্ত্রাসী অবকাঠামো' ধ্বংসের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, 'যেসব এলাকা দখল ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখবে আইডিএফ।'
এই পদক্ষেপটি লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গাজায় 'হলুদ রেখা' কৌশলটি ইতিমধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, এবং লেবাননে এর প্রয়োগ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে।



