ঢাকার নিত্যপণ্যের বাজারে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা কমেছে, যা ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি এনেছে। অন্যদিকে, মাছের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
মুরগি ও ডিমের বাজার
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খামারের ডিম কয়েকদিন আগে প্রতি ডজন প্রায় ১৫০ টাকা থাকলেও এখন তা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় নেমে এসেছে।
মাছের বাজার
মাছের বাজার বেশিরভাগই স্থিতিশীল রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দামে সামান্য তারতম্য দেখা গেলেও বড় ধরনের ওঠানামা নেই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঙ্গাশ ১৮০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৩০ টাকা, রুই ২৬০-৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইম ৬০০-৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কৈ ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি আকার ও প্রজাতিভেদে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজার
মৌসুমি উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ উন্নত হওয়ায় সবজির দাম কমেছে। অধিকাংশ সবজি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ১০০-১২০ টাকা, ওল ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, সজিনা ৬০-৭০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা কেজি, ধনেপাতা প্রতি আঁটি ১০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই জোড়া লেবু ২০ টাকা এবং ছোট লেবু ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতামত
ব্যবসায়ীরা জানান, পটল, সজিনা, বরবটি, লতি ও চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ বেড়েছে, কারণ মৌসুমি উৎপাদন বেড়েছে। এ কারণে দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তারা আরও জানান, কোরবানির ঈদের পর গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রায়সাহেব বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আলী আজম বলেন, 'গত কয়েকদিন ধরে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আজ (শুক্রবার) আমরা ব্রয়লার ১৬০ টাকা কেজি এবং সোনালি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় বড় কোনো ওঠানামা নেই।'
নারিন্দা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'ঈদের পর মাছের বাজার কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। প্রায় সব ধরনের মাছ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে ২০-৩০ টাকা পার্থক্য থাকলেও বড় কোনো বাড়তি নেই। ক্রেতারাও এখন স্বাভাবিকভাবে মাছ কিনছেন।'
ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া
রিকশাচালক বরকত আলী বলেন, 'আগের তুলনায় সবজির দাম কমেছে। আজ (শুক্রবার) আমি ৫০ টাকা কেজি দরে ১ কেজি চিচিঙ্গা কিনেছি। করলা, বরবটি, মূলাসহ অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। শুধু গাজর একটু দামি। সার্বিকভাবে বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে।'
নারিন্দা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাসির উদ্দিন বলেন, 'কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এখন বাজার অনেক বেশি সহনীয় মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও অধিকাংশ সবজির দাম কমায় পরিবারের খরচ কিছুটা সামলানো যাচ্ছে। আশা করি, সব পণ্যের দাম এভাবেই থাকবে বা আরও কমবে।'



